আসলেই কি উড়বে নাজমুলের হেলিকপ্টার?

খুলনার ফুলতলা উপজেলার জামিরা ইউনিয়নের ছাতিয়ানি গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান নাজমুল।  নাজমুল পড়াশোনা করছেন সরকারি বিএল কলেজের বিএসএস দ্বিতীয় বর্ষে। নাজমুলের বাবা নজরুল ইসলাম খান পেশায় একজন কৃষক। তবে একটি মুদি দোকান আছে তার। সম্প্রতি নাজমুল একটি হেলিকপ্টার বানিয়েছেন। এই হেলিকপ্টার নিয়ে প্রচুর সংবাদ হয়েছে। কিন্তু এই হেলিকপ্টার উড়বে কি না এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নেটিজেনরা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভিডিও সংবাদে দেখা গেছে, নাজমুল হেলিকপ্টারে বসে সেটা চালু করছেন কিন্তু শত শত ভিডিও সংবাদে একই দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু হেলিকপ্টার উড়তে দেখা যায়নি। 

নাজমুল বলেন, ওয়েবসাইটের সহযোগিতায় জ্ঞান অর্জন করে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেছি এই হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টারের ইঞ্জিন ব্যয়বহুল, তাই নিজস্ব চিন্তায় মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন মডিফাই করে এটি তৈরি করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, মা-বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আজ নিজ চেষ্টায় সফল হয়েছি। হেলিকপ্টার প্রস্তুতকারী নাজমুল আরও জানান, হেলিকপ্টারের বডি তৈরিতে ব্যবহার করেছেন এসএস পাইপ। এছাড়া চায়না ১৫০ সিসির মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের আরপিএম সাড়ে ৬ হাজার থেকে বাড়িয়েছেন ৯ হাজার আরপিএমএ। এর পাখা সাড়ে ৮ ফিট লম্বা, চওড়া ২১ মিটার। পুরো হেলিকপ্টারটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ২২ ফিট। হেলিকপ্টারটি এক লিটার অকটেনে ১৮ থেকে ২০ মিনিট চলবে। যার সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার। 

নাজমুল বলছেন, আশা করছি, পূজার পরেই পরীক্ষামূলকভাবে হেলিকপ্টারটি ওড়াতে পারব।  আকাশে ওড়ার অপেক্ষায় নাজমুলের হেলিকপ্টার। তবে এর জন্য প্রয়োজন আরও নিরাপত্তা সরঞ্জাম।

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হেলিকপ্টার প্রস্তুতকারক নাজমুল খানকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া হেলিকপ্টার ওড়ানোর সময় ফায়ার সার্ভিসসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টার উড়বে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।