ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাচ্ছেন সালমান খান

সন্ত্রাসীদের গুলিতে ভারতের মুম্বাইয়ে রাজনীতিক বাবা সিদ্দিক নিহতের ঘটনায় অনেকটাই সতর্ক স্থানীয় প্রশাসন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার দু’জন নিজেদের লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনে এই গ্যাংয়ের হাত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

বাবা সিদ্দিক খুনের পরপরই সালমন খানের সিকিউরিটি ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হয়েছে। কারণ নিহত বাবা সিদ্দিক বলিউড বাদশাহ সালমান খানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, যিনি বছরের পর বছর ধরে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নজরে ছিলেন।

ইন্ডিয়া টুডের খবর অনুযায়ী, নিরাপত্তা দলে থাকবেন পুলিশ এসকর্ট কার, যারা সবসময় সালমানের সঙ্গে থাকবেন। এছাড়া ভাইজানের সঙ্গে থাকবেন একজন কনস্টেবলও, যাকে সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি, সালমান খানের ব্যক্তিগত সুরক্ষাও বাড়ানো হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ কারও সঙ্গে দেখা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে অভিনেতার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ই-টাইমসকে বলেছেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বন্ধু ও সহকর্মীদের জন্য সালমান খানের দরজা সবসময়ই খোলা। অভিনেতা তার বাড়িতে কাউকে যেতে বাধা দেননি, তবে পরিবার কিছুটা সতর্ক। হুমকি সত্ত্বেও বাবা সিদ্দিকির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সালমন।

অন্যদিকে, সেলিম খানকেও সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। কারণ তিনি প্রতিদিন বান্দ্রায় প্রাতঃভ্রমণে যান। অভিনেতার পানভেলের ফার্ম হাউসেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে, যদিও সালমান এখন মুম্বাইয়ে বেশি সময় কাটান।

বাবা সিদ্দিকী শুধু রাজনৈতিক কাজের জন্যই বিখ্যাত ছিলেন না, সালমান খানের সঙ্গে বন্ধুত্বের অটুট বন্ধনের জন্যও বিখ্যাত ছিলেন। সালমান খান এবং বাবা সিদ্দিক দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। বলিউডের ‘সুলতান’ বরাবরই সিদ্দিকের বার্ষিক ইফতার পার্টিতে হাজির হন। সুতরাং, সালমান খানের পক্ষে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর লাশ দেখা এবং শ্রদ্ধা জানানো সহজ ছিল না।

কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দ্বারা সালমান খানকে সরাসরি হুমকি দেওয়া সত্ত্বেও, অভিনেতা শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সিদ্দিকের বাড়িতে এসেছিলেন। তবে কঠিন সময়ে তিনি তার বাড়িতে থাকতে পারেননি। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কালো রঙের গাড়িতে করে সিদ্দিকের বাসায় পৌঁছান তিনি। পুলিশের একটি গাড়ি সালমনের গাড়িকে খুব কাছ থেকে অনুসরণ করে। অভিনেতা যখন ভিড়ের মধ্যে দিয়ে বাড়ি থেকে বেরোচ্ছিলেন, তখন তাকে অশ্রুসিক্ত চোখে দেখা যায়।