দুই মাসে শুধু অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিনকে নিয়েই তিন ধরণের সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রথমে একবার তাকে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) করা হয়। এর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আবার তাকে সেই পদ থেকে সরিয়েও নেওয়া হয়। এক মাস পর সরিয়ে নেওয়া ডা. রোবেদ আমিনকে পুনরায় আরেক প্রাজ্ঞাপনে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পার-১ শাখায় ন্যস্ত করার তথ্য জানায় মন্ত্রণালয়। ফলে দুই মাসের মধ্যে এক কর্মকর্তাকে নিয়েই তিনবার তিন ধরণের সিদ্ধান্ত নিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে উল্লেখ করে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পার-১ শাখায় ন্যস্ত করার তথ্য জানায়। কারণ হিসেবে বলা হয়- ‘পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের জন্য’।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে মহাপরিচালকের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ওইদিনই অধিদপ্তরের তৎকালীন লাইন ডিরেক্টর ডা. রোবেদ আমিনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পদে বসায়।
সেদিন থেকেই এই নিয়োগের বিরোধীতা শুরু করে বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। ড্যাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে রোবেদ আমিনের বিরুদ্ধে দুই ধরনের অভিযোগ করে। প্রথমত- রোবেদ আমিন ছাত্র–জনতার আন্দোলনের বিরোধীতা করেছেন। দ্বিতীয়ত- অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর থাকার সময় তিনি ব্যাপক অনিয়ম–দুর্নীতি করেছেন।
এমনকি গত ১৯ আগস্টের পর থেকে ড্যাবের সমর্থক চিকিৎসক ও কর্মচারীদের একটি অংশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রতিদিনই অধিদপ্তরের সামনে সমাবেশ করে। এই পদে থাকার শেষদিন পর্যন্ত এই কর্মকর্তা অধিদপ্তরে ঢুকতে পারেননি। তার কারণে প্রায় এক মাস ধরে কার্যত অচল থাকে অধিদপ্তর।
চিকিৎসকদের এক অংশের বাধার মুখে পরে বাধ্য হয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (চলতি দায়িত্বে) পদ থেকে অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিনকে সরিয়ে নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেদিনের প্রজ্ঞাপনে মহাপরিচালকের দায়িত্ব (অতিরিক্ত) দেওয়া হয় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেনকে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন এবং ডা. রোবেদ আমিনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। সেই ডা. রোবেদ আমিনকে আজ মঙ্গলবার পুনরায় আরেক দফা সরানো হয় ও নতুন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পার-১ শাখায় ন্যস্ত করার তথ্য জানানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনরত এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডা. রোবেদ আমিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রমাণিত। তারপরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নানা গড়িমসি করছে। অথচ চিকিৎসকরা শুরু থেকেই তাকে স্বাস্থ্যখাত থেকে অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছে।