ইসরায়েল গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে উত্তর গাজায় সব ধরনের খাদ্য সহায়তা প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। জাতিসংঘের অনুমান, সেখানে বসবাসকারী প্রায় ৪ লাখ ফিলিস্তিনিরা অনাহারে আছেন।
ইসরায়েলি বাহিনী হামলা করে জোরপূর্বক বিভিন্ন খাদ্য বিতরণ পয়েন্ট, রান্নাঘর এবং বেকারি বন্ধ করে দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) সমর্থিত উত্তর গাজার একমাত্র সচল থাকা বেকারিতে ইসরায়েল হামলা চালালে তাতে আগুন ধরে যায়।
গাজা উপত্যকাজুড়ে, কমপক্ষে ২.১৫ মিলিয়ন বা মোট জনসংখ্যার ৯৬ শতাংশ মানুষ উচ্চ স্তরের খাদ্য ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছেন। সেখানে পাঁচজনের মধ্যে একজনকে অনাহারে থাকতে হয়।
গাজার বেশিরভাগ লোকেরই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার মতো কোনো উপায় নেই। তারা দাতব্য খাদ্য সহায়তা এবং বিভিন্ন খাদ্য ও নগদ কুপন বিতরণের উপর নির্ভর করে।
ইসরায়েলের চলমান হামলার কারণে অর্থনীতি ভেঙে পড়ায় তাদের বেশিরভাগই তাদের চাকরি হারিয়েছে। বিনিময়ের জন্য তাদের কাছে যা কিছু নগদ সঞ্চয় এবং বিভিন্ন পণ্যদ্রব্য ছিল তা শেষ হয়ে গেছে।
নীচের গ্রাফে সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর এবং দক্ষিণ গাজায় খাদ্যের দাম:
যুদ্ধবিধ্বস্ত উত্তর এবং দক্ষিণ গাজায় খাদ্যের দাম গত সেপ্টেম্বর মাসে আকাশছোঁয়া অবস্থায় পৌঁছেছে। তবে এই দামগুলো প্রাপ্যতার উপর ভিত্তি করে ব্যাপকভাবে ওঠানামা করে। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ গাজায় ২৫ কেজি ব্যাগের ময়দার দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৭,৯৫০ টাকা (১৫০ ডলার) এবং উত্তরে ২৫ কেজির প্রতি ব্যাগ ১,১৯,৬৬৬ টাকা (১০০০ ডলার) পর্যন্ত।
যুদ্ধের আগে এক ডজন ডিমের দাম ছিল ৪১৮ টাকা (৩.৫ ডলার)। এটি এখন দক্ষিণে ৩,৮২৯ টাকা (৩২ ডলার) এবং উত্তরে প্রায় ৮,৭৩৫ টাকা (৭৩ ডলার) এ বিক্রি হচ্ছে।
নন-ডেইরি গুঁড়ো দুধ এখন উত্তরে বিক্রি হয় প্রতি চামচ ১১৯ টাকা (১ ডলার), বা প্রতি কিলো ১৪,৮৩৮ টাকা (১২৪ ডলার)। নবজাতক শিশুদের ফর্মুলা খাবার গাজার উত্তরে অনেকাংশেই পাওয়া যাচ্ছে না। আর দক্ষিণে প্রতি টিনের দাম ১,৭৯৫ টাকা (১৫ ডলার)। এক টিনে গড়ে প্রায় ৩৫০ গ্রাম ফর্মুলা থাকে।
ইসরায়েল গাজার বেশিরভাগ খামার, কূপ এবং গ্রিনহাউস ধ্বংস করার পরে শসা এবং টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি সবচেয়ে ব্যয়বহুল।