ডাকেটের সেঞ্চুরি ও শেষ সেশনে ৫ উইকেট

মুলতানের যে উইকেটে দ্বিতীয় দিন ইংল্যান্ড ব্যাটিং করেছে সেটি দশ দিনের পুরনো। অধরা জয়ের জন্য সেই ব্যবহৃত পিচকেই স্পিন স্বর্গ বানিয়ে খেলতে নামে পাকিস্তান। আগের দিন কামরান গুলামের সেঞ্চুরির পর আজ ইনিংস বেশি দূর টানতে পারেননি পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। তাদের ৩৬৬ রানের জবাবে বাজবল ধরণে রান তুলতে থাকে ইংল্যান্ড। বেন ডাকেট পান সেঞ্চুরির দেখা। তবে মুলতানের বিকেল হয়ে ওঠে যেন পড়ন্ত উইকেটের বেলা। শেষ সেশনে ম্যাচে ফেরা পাকিস্তান তুলে নেয় ৫ উইকেট। তাতে দ্বিতীয় দিন শেষে ইংলিশদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৩৯ রান, পিছিয়ে ১২৭ রানে।

পাকিস্তানি উইকেটের বেলায় ইংলিশ পেসার ও স্পিনাররা ছিলান সমানে সমান। তবে ইংল্যান্ডের হারানো ৬ উইকেটের সবকটিই নিয়েছেন পাকিস্তানের পেসাররা। এর মধ্যে আলো কেড়েছেন সাজিদ খান। তার শিকার ৪টি। নোমান আলি নিয়েছেন বাকি ২ উইকেট। ৫ উইকেটে ২৫৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিং শুরু করেছিল পাকিস্তান। হাতে থাকা ৫ উইকেট নিয়ে দেড় সেশন ক্রিজে থাকলেও ১০৭ রানের বেশি বোর্ডে তুলতে পারেননি। মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪১, সালমান আগা ৩১ ও আমির জামাল ৩৭ রান করেন। জ্যাক লিচ, ব্রাইডন কার্স, ম্যাথিউ পটস ও শোয়েব বশির পান ৪, ৩, ২ ও ১টি করে উইকেট।

উইকেটে স্পিন ধরার আগে তেড়ে খেলে যতখানি সম্ভব রান বোর্ডে জড়ো করার ইচ্ছাই ছিল বোধহয় ইংল্যান্ডের। দিনের শেষ ঘন্টার আগ পর্যন্ত ৫ এর বেশি রান রেটে ব্যাটিং করে তারা। উদ্বোধনী জুটি যখন ৭৩ রানের তখন ২৭ রানে নোমানের শিকার হয়ে ফেরেন জ্যাক ক্রলি। এর পর ওলি পোপ ২৯ ও জো রুট ৩৪ রানে সাজঘরে যান। এদের প্রত্যেকের সঙ্গেই জুটি হড়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন বেন ডাকেট। প্রথম টেস্টে কাছে গিয়ে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেও এবার তুলে নেন ঠিক। থামেন ১৬ চারে ১২৯ বলে ১১৪ রান করে। ২৯ বছর বয়সী ডাকেটের এটি চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি।

এর পরই মড়ক লাগে ইংলিশ ইনিংসে। ২১১ থেকে ২২৫ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট খুঁইয়ে বসে তারা। রুট ও ডাকেটের পর আগের টেস্টের ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান হ্যারি ব্রুক ৯ রানেই ফিরে যান। চোট কাটিয়ে টেস্টে ফেরা ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকস ক্রিজে ছিলেন মাত্র ৫ বল। ১ রানে তিনিও শিকার বনেন সাজিদের। বাকি সময়টুকু উইকেটকিপার জেমি স্মিথ ও ব্রাইডন কার্স দেন ধৈর্যের পরীক্ষা। ৩৩ বলে ১২ রানে স্মিথ ও ১৯ বলে ২ রানে অপরাজিত আছেন কার্স।