কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ খাদ্য সংকটে আফ্রিকা

আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহতম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এই কথা জানিয়েছে। জাতিসংঘের এই সংস্থাটি বলেছে, আফ্রিকায় চলমান মারাত্মক খরা পরিস্থিতির কারণে খাদ্য সংকট চরমে পৌঁছেছে। মহাদেশটির পাঁচটি দেশÑ লেসোথো, মালাউয়ি, নামিবিয়া, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে ‘বিপর্যয়কর অবস্থা’ ঘোষণা করেছে। তারা আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া, অ্যাঙ্গোলা-মোজাম্বিকও ভয়াবহভাবে খাদ্য সংকটে ভুগছে। দেশ দুটিতে এই সংকটের মুখে অপুষ্টিতে ভুগছে প্রায় ২কোটি ১০ লাখ শিশু।

জেনেভাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মুখপাত্র টমসন ফিরি বলেন, ‘আমরা বাড়তি সহায়তার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হলে কোটি কোটি মানুষ বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবে।’ ফিরি আরও বলেন, ‘মহাদেশটির একটি অংশ জুড়ে খরায় ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। অসংখ্য গবাদি পশু মারা গেছে। অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন যে, দিনে একবেলা খেতে পেলে সেই শিশু ভাগ্যবান। এখানকার পরিস্থিতি যথেষ্ট ভয়াবহ। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এতটা স্পষ্টভাবে আগে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরের বর্ষাকাল এ অঞ্চলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এল-নিনোর নেতিবাচক প্রভাবে দেরিতে বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ বছর সবচেয়ে চরম খরা দেখা দিয়েছে। গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের ফলে এর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে আরও বেড়েছে।

মহাদেশটিতে এই মুহূর্তে খাদ্য সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। তবে কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে। আগামী মার্চে ফসল ওঠার আগ পর্যন্ত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত সাত দেশের প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ অর্থ সহায়তা পেতে পারেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ৩৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার প্রয়োজন। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত এর মাত্র এক-পঞ্চমাংশ অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে। তহবিল ঘাটতির কারণে তাদের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষমতা সীমিত হওয়া নিয়েও উদ্বেগে আছে সংস্থাটি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। কিন্তু শিগগিরই এ সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।