একই পিচে উল্টোরথে পাকিস্তান-ইংল্যান্ড

তৃতীয় দিনে এসে মুলতানের দ্বিতীয় টেস্টের চিত্রনাট্যে কেবল স্পিনারদের রাজত্ব। এদিন দুই দল মিলিয়ে উইকেট পড়েছে ১৬টি, যার ৩টি মাত্র পেয়েছেন পেসাররা। বাকিগুলো সব স্পিনারদের। মুলতানের ঘূর্ণি উইকেটের সবচেয়ে ফায়দা লুফে নিয়েছেন পাকিস্তানের ৩১ বছরের অফস্পিনার সাজিদ খান। আগের দিনের মতো এদিনও তিনি শিকার ধরেছেন চারটি। প্রথম ইনিংসে সাত শিকার ধরে সাকলায়েন মুশতাকের পর দেশের মাটিতে অফস্পিনার হিসেবে কোনো টেস্টে এক ইনিংসে কমপক্ষে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। তাতে ১২ টেস্ট পর ঘরের মাঠে জয়ের স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে পাকিস্তানের। ইংল্যান্ড ২৬১ রান করার আগে আর আটটি উইকেট নিতে পারলেই যা বাস্তবে রূপ নেবে।

ছয় উইকেটে ২৩৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৩০০ পেরোতে পারেনি। শেষ চার উইকেট হারিয়ে এদিন আরও ৫২ রান যোগ করতে পারে দলটি। আগের দিন চার উইকেট তুলে নেওয়া সাজিদ শেষ পর্যন্ত ১১১ রানের খরচায় পান সাত উইকেট। মুলতানের সেরা বোলিং ফিগারও এটি। বাকি তিনটি উইকেট পান নোমান। ইংলিশদের হয়ে এদিন কিছুটা লড়াই করেছিলেন জ্যাক লিচ ও জেমি স্মিথ। লিচ ২৫ রানে অপরাজিত থাকলেও স্মিথ থেমেছেন ২১ রানে।

প্রথম ইনিংসে ৭৫ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ১৫৬ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। এরপর সাজিদ খানকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন সালমান আগা। নবম উইকেটে ৬৫ রান যোগ করেন এ দুই ব্যাটার। তাতেই চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়তে সমর্থ হয় স্বাগতিকরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন সালমান। ৮৯ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় এই রান করেন তিনি। ৪৩ বলে ২২ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন সাজিদ। এ ছাড়া সৌদ শাকিল ৩১ ও কামরান গুলাম ২৬ রান করেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে ৬৬ রানের খরচায় চারটি উইকেট নেন শোয়েব বশির। তিনটি শিকার লিচের। দুটি উইকেট পেয়েছেন ব্রাইডন কার্স।

২৯৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দিনের শেষ বেলাটা ভালো যায়নি ইংলিশদের। দুই ওপেনারকেই হারিয়েছে তারা। আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান বেন ডাকেট রানের খাতা খোলার আগেই মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন সাজিদের বলে। আর নোমানের বলে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন জ্যাক ক্রলি। তবে জো রুটকে নিয়ে দিনের বাকি সময় ভালোভাবেই কাটিয়ে দিয়েছেন ওলি পোপ। রুট ১২ ও পোপ ২১ রানে ব্যাটিং করছেন।