গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে যমুনার পানি বাড়ায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুই মাসে দুই উপজেলার অন্তত চার শতাধিক ঘরবাড়ি ও জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। জিওব্যাগ ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। হুমকির মুখে পড়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, কবরস্থান, আশ্রয়ণ কেন্দ্রসহ ঘরবাড়ি। ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
মাদারগঞ্জের চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল গ্রামে যমুনা নদীর পূর্ব তীরে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক বছরের ভাঙনে প্রায় ৭ শতাধিক বসতভিটা ও প্রায় ৮০০ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত দুই মাসেই দুই শতাধিক বসতভিটা ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেক মানুষ। গত কয়েক বছরের ভাঙনে বিলীন হয়েছে বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদসহ গোটা পাকরুল গ্রাম। এখন হুমকির মুখে পড়েছে ইউনিয়নের হিদাগাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিক, তিনটি আশ্রয়ণ কেন্দ্রসহ শতাধিক ঘরবাড়ি।
স্থানীয়রা জানান, যমুনা চরাঞ্চল এখন ভরা ফসলি মৌসুম। হঠাৎ পানি বাড়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে মরিচ, রোপা-আমন জমি ও কলা বাগান ক্রমেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
পাকরুল গ্রামের মামুন মিয়া বলেন, ‘গ্রামের ঘরবাড়ি, জমি নদীতে বিলীন হয়ে মানচিত্র থেকে পাকরুল গ্রামের নামটি মুছে গেছে। গ্রামের যেটুকু অবশিষ্ট ছিল তা এই কয়েক দিনের ভাঙনে শেষ হয়েছে। স্থানীয় একমাত্র হিদাগাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকটা এখন ভাঙনের হুমকিতে। আমরা কোনো রিলিফ চাই না। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ চাই।’
চরপাকেরদহ ইউপি চেয়ারম্যান বদরুল আলম সরদার বলেন, ‘গত দুই মাসে প্রায় দুই শতাধিক বসতবাড়ি ও কৃষি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ না করলে পাশর্^বর্তী গ্রামটি নদীতে হারিয়ে যাবে।’
এদিকে যমুনার পানি বাড়ায় ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের প্রজাপতি, শিশুয়া, চরশিশুয়া, কাশারীডোবা, ম-লপাড়া, আকন্দপাড়া ও চেঙ্গানিয়া গ্রামের অন্তত দুই শতাধিক বসতভিটা ও শতশত একর জমি নদীর গর্ভে চলে গেছে। এ আকস্মিক ভাঙনে বসতভিটা অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কাশারীডোবা ও আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা।
কাশারীডোবা গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যায় বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে মহাবিপাকে পড়েছি। নিজেদের জমি সবই নদী গিলে খাইছে। এখন নিজস্ব জমি নেই। কোথায় যাব, কী করব, এ নিয়ে দিশেহারা আমরা।’
সাপধরী ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম ম-ল জানান, ‘সরকারিভাবে সহযোগিতার জন্য ভাঙন কবলিতদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।’
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘ভাঙন ঠেকাতে জরুরিভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি পাকেরদহ অংশে একটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। সেটার দ্বিতীয় সংশোধনীতে এ দুই হাজার মিটারের কাজ সংযুক্ত করার প্রস্তাবনা দিয়েছি। এই কাজটি হলে এটা স্থায়ী সমাধান হবে। এ ছাড়া ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নের ভাঙনরোধে সরকারি বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ করা হবে।’