বাংলাদেশ ক্রিকেটে রিভার্স সুইপের ইতিহাস বেশ পুরনো, তবে এটি নিয়ে সমালোচনার পাল্লাও কম নয়। একসময় এই শটটি ছিল বেশিরভাগ ক্রিকেটারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু মুশফিকুর রহিমই তখন সাহস করে নিয়মিত এই শট খেলতেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এখন প্রায় সব ব্যাটসম্যানই রিভার্স সুইপ খেলেন, যদিও সমালোচনা এখনো হয়।
সাম্প্রতিক ভারত সফরে টেস্ট সিরিজে সাকিব আল হাসানকেও রিভার্স সুইপ খেলতে দেখা যায়, যা বিস্মিত করে অনেককেই। নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়ও তাদের ইনিংসে রিভার্স সুইপ খেলার চেষ্টা করেন। এই শটটি সঠিকভাবে না খেলতে পারার মাশুলও গুনতে হয়েছে তাদের। বিশেষ করে শান্ত, যিনি কানপুরের দ্বিতীয় টেস্ট এবং হায়দরাবাদে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রিভার্স সুইপ খেলার চেষ্টায় আউট হন।
দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে এই শট নিয়ে আলোচনা উঠলে শান্ত তার ভুল স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “শেষ টি-টোয়েন্টিতে আমি যে রিভার্স সুইপটা খেলেছি, সেটা ভুল শট ছিল। ওই সময়ে ওই শট খেলার প্রয়োজন ছিল না। তবে কানপুর টেস্টে যখন আউট হয়েছিলাম, তখন শটটি প্রয়োজনীয় ছিল।” শান্ত আরও বলেন, চেন্নাইয়ের প্রথম টেস্টে তার ৮২ রানের ইনিংসে তিনি বেশ কয়েকবার রিভার্স সুইপ খেলেছিলেন এবং বল যখন স্পিন হচ্ছিল, তখন এই শট কার্যকর ছিল।
শান্তের মতে, রিভার্স সুইপ একটি কার্যকর শট, বিশেষ করে যখন উইকেটে স্পিন থাকে। চেন্নাইয়ে অশ্বিন-জাদেজার বলে ৯টি রিভার্স সুইপ খেলে তিনি ২৩ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ৪টি ছিল চার। কিন্তু বাইরে থেকে যখন এই শট নিয়ে সমালোচনা করা হয়, শান্ত তা মেনে নিতে নারাজ। এই শট নিয়ে প্রশ্ন তোলাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি, 'আপনাদের (সাংবাদিকরা) চেয়ে আমরা হয়তো একটু বেশি জানি, কোন উইকেটে কোন শট খেলতে হবে। এখন আমি যদি আপনার জায়গায় বসে প্রশ্ন করা শুরু করি, হয়তো প্রশ্ন ভুল হবে। তো এটা একটা বোকামি।' শান্ত বলেন, 'আমি বলব না যে, আমাদের ক্রিকেটাররা সবসময় ঠিক শট খেলে আউট হয়। ভুল হয়, ঠিক হয়, এর মাঝামাঝি থাকে। ওইটা আমরা ঠিক করার চেষ্টা করি। তবে সবার একটা যথাযথ পরিকল্পনা থাকে, ওই অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করে।'
রিভার্স সুইপ নিয়ে আলোচনা মূলত শুরু হয় মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেট থেকে। মিরপুরের উইকেটে ব্যাটসম্যানদের সাধারণত দুই পাশে শট খেলা বেশি কার্যকর হয়, তাই রিভার্স সুইপের প্রয়োজনীয়তাও এখানে বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে উইকেটের আচরণ যদি স্পিন সহায়ক হয়, তবে সাইড শটগুলো, বিশেষ করে সুইপ এবং রিভার্স সুইপ, হতে পারে ম্যাচ নির্ধারক শট। শান্ত দলের ব্যাটসম্যানদের এই শট খেলতে উৎসাহিত করেছেন, তিনি বলেন, “উইকেটে যদি স্পিন হয়, সাইড শট, সুইপ-রিভার্স সুইপ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেউ এই শট খেলতে গিয়ে আউট হলে সমালোচনা হয়, তবে এই ধরনের উইকেটে কোন শট গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে হবে।”
শান্ত আরও বলেন, “ক্রিকেটাররা সঠিক প্রস্তুতি নিয়েছে এবং আমি আশা করি তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলবে।”