তরফদারের পিঠটান, বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল

আর কোন প্রার্থী না থাকায় বিনা ভোটে সিনিয়র সহ-সভাপতি হতে যাচ্ছেন ইমরুল হাসান

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:৪২ পিএম

অনেক নাটক জন্ম দেওয়ার পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচন থেকে সরে গেলেন তরফদার রুহুল আমিন। সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের কর্ণধার ও চট্টগ্রাম আবাহনীর কাউন্সিলর রুহুল আমিন প্রত্যাহারের শেষ দিনে অনেক সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ থেকে প্রার্থীতা তুলে নিতে চিঠি দেন। যে চিঠিতে নির্বাচন নিয়ে তুলে ধরেন নানা অভিযোগ। তবে চিঠিতে কারিগরি ত্রুটি থাকায় প্রত্যাহারের সেই চিঠি শুরুতে গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন। পরে তাকে বিশেষভাবে সময় বেঁধে দেওয়া হয় শুদ্ধভাবে প্রত্যাহার পত্র দেয়ার। তরফদার নতুন করে প্রত্যাহার পত্র দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনা গ্রহণ করে তার তা। যার ফলে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে জমজমাট লড়াইয়ের যে আবহ তৈরী হয়েছিল তার একেবারেই শেষ হয়ে গেছে। আর কোন প্রার্থী না থাকায় বিনা ভোটে সিনিয়র সহ-সভাপতি হতে যাচ্ছেন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান। এই পদ ছাড়া বাকী পদগুলোতে হবে ভোটের লড়াই।  

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচন এলেই এক আলোচিত ক্যারেকটার হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তরফদার রুহুল আমিনের। মূল পরিচয় ব্যবসায়ী হলেও এক দশকে ফুটবল অঙ্গনে তিনি পরিচিত হয়েছেন আলোচিত নানা ঘটিয়ে ঘটিয়ে। এবারও তাই হলো। শুরুতে সভাপতি পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন। সেই ঘোষণার এক সপ্তাহ পর আরেকজন হেভিওয়েট প্রার্থী তাবিথ আউয়াল প্রার্থীতা ঘোষণা দিলেই এতটাই চুপসে যান যেন কোমায় চলে গেছেন। একটা সময় সপরিবারে দেশও ছাড়েন কিছুদিনের জন্য। এরপর মনোনয়ন সংগ্রহের শেষ দিনে সিদ্ধান্ত বদলে নেন সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র। তাবিথকে সভাপতি পদে সমর্থনের ঘোষণা দিয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আগেই নির্বাচনের মাঠে থাকা ইমরুল হাসানকে সরানোর নানা পথ খুঁজতে থাকেন। কখনও নিজে ফোন দেন, কখনোবা সুবিধাবাদী কিছু অনুসারীকে দিয়ে চাপ দেওয়াতে থাকেন। একটা পর্যায়ে প্রচ্ছন্ন হুমকিও ইমরুল হাসানকে দেওয়া হয় তাদের অনুসারীদের পক্ষ থেকে। সকল চাপ উড়িয়ে ইমরুল যখন নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ জানান, তখন রণেভঙ্গ দেন রুহুল আমিন। এই লড়াইয়ে হারার সম্ভাবণা বুঝতে পেরেই নিজেকে সরিয়ে নেওয়া তরফদারের।

যদিও প্রত্যাহারের চিঠিতে রুহুল আমিন বাফুফের ও নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল রবিবার দুপুর দুইটা। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে প্রার্থীতা থেকে তরফদার রুহুল আমিনের প্রত্যাহারের চিঠি নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করে নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার ঠিক এক মিনিট আগে। প্রত্যাহারের চিঠিতে তিনি বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন। তবে সেই চিঠিটা তিনি লিখেছেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার বরাবর। যার ফলে নির্বাচন কমিশন সেটা গ্রহণ করেনি।

চিঠিতে মোট পাঁচটি অভিযোগ উল্লেখ করেন সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের কর্ণধার ও চট্টগ্রাম আবাহনীর কাউন্সিলর রুহুল আমিন।। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, "বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারশন কর্তৃক আয়োজিত, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন-২০২৪ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী পদ থেকে নিম্নলিখিত কারণে আমি আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলাম। কারণগুলো হলো- আইন না মেনে ডেলিগেট ফরম সরাসরি হাতে হাতে প্রদান করা। ফিফা কর্তৃক নিষিদ্ধ এবং বাফুফে থেকে বহিস্কৃত সেক্রেটারি আবু নাঈম সোহাগ কর্তৃক নির্বাচন বিধিমালা প্রকাশ ও বিতরণ। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন কমিশন গঠন, কারণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পরপর পাঁচবার একই দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি করতে না পারা ও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা।

এই চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্য সিদ্ধান্ত নিয়ে তরফদার রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ত্রুটির বিষয়টি অবহিত করেন। কমিশন তাকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে শুদ্ধ প্রত্যাহারে চিঠি দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেয়। সেই সময়ের মধ্যে রুহুল আমিনের প্রতিনিধি চিঠি দিলে তার প্রত্যাহার পত্র গৃহীত হয় বলে জানা গেছে। 

তরফদারের এই নাটকের পর নির্বাচন কমিশন ব্যালট নম্বরসহ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। সভাপতি পদে তাবিথ আউয়াল পেয়েছেন ২ নম্বর ব্যালট, তার প্রতিদ্বন্দ্বী দিনাজপুরের তৃণমূল ফুটবল নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা কোচ এ এফ এম মিজানুর রহমান চৌধুরী পেয়েছেন ১ নম্বর ব্যালট। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে একক প্রার্থী ইমরুল হাসান। চারটি সহ-সভাপতি পদের জন্য লড়বেন ছয় প্রার্থী। ব্যালটের ক্রমানুসারে তারা হলেন- ফাহাদ করিম, ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী (হ্যাপি), নাসের শাহরিয়ার জাহেদী, শফিকুল ইসলাম মানিক, সাব্বির আহম্মেদ আরেফ ও সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির।

এছাড়া ১৫টি নির্বাহী সদস্য পদের জন্য লড়বনে ৩৭জন প্রার্থী। প্রত্যাহারের দুই দিনে তিনজন নির্বাহী সদস্যের প্রার্থীতা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছেন। ২৬ অক্টোবর বার্ষিক কংগ্রেস শেষে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ইন্টারকন্টিনেন্টার হোটেলে চলবে বিরামহীন ভোটগ্রহণ। যেখানে ভোটার সংখ্যা ১৩৩জন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত