এবার না পারলে আর কবে

ব্যস্ত সময় কাটছে কেশব মহারাজের, অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে তাকে। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলের সদস্যদের মধ্যে নিকট অতীতে একমাত্র তারই আছে বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা! ৯ বছর পর বাংলাদেশ সফরে এসেছে প্রোটিয়ারা। তারুণ্য নির্ভর এই দলটার ক্রিকেটারদের টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতার সমষ্টি মুশফিক-মমিনুল-মিরাজের খেলা মোট টেস্ট ম্যাচের কাছাকাছি। নেই উপমহাদেশে খেলার অভিজ্ঞতাও। এমন একটা দলকে যদি হারানো না যায়, তাহলে কাদের বিপক্ষে পারবে বাংলাদেশ?

দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত, এই দুই দলের বিপক্ষে এখনো টেস্ট জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতায় বলা যায়, দিল্লি অনেক দূর। তবে দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোটা বর্তমান বাস্তবতায় খুবই সম্ভব। প্রোটিয়া দলে ফাফ দু প্লেসি, হাশিম আমলাদের পরের প্রজন্মটা এখনো নড়বড়ে। ডেভিড বেডিংহ্যাম, টোনি ডি জোর্জি, রায়ান রিকেলটন, টিস্টান স্টাবস... প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইন-আপের ওপরের দিকের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানেরই ১০টা টেস্ট ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও নেই। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এইডেন মার্করাম অবশ্য ৩৯টা টেস্ট খেলেছেন; অভিজ্ঞতা আছে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় খেলার। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকেই ভালো করা মার্করামকে নিয়েই বাংলাদেশের বোলারদের শঙ্কা, কারণ স্পিন খেলার  দক্ষতাটা তারই বেশি। অবশ্য অতীত মনে রাখলে নির্ভার হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক রুডলফ অভিষেকেই চট্টগ্রামে  বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি। তাই অল্প অভিজ্ঞতা নিয়েও ডি জোর্জি, বেডিংহ্যামরা যে বড় ইনিংস খেলে ফেলবেন না, তারই বা নিশ্চয়তা কী!

চেন্নাই এবং কানপুরে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের যে দুর্দশাটা ফুটে উঠেছে, সেটা খুব দ্রুতই সেরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তার ওপর সাকিব আল হাসান না থাকায় ব্যাটিং শক্তি খানিকটা কমবে। সাদমান ইসলাম, জাকির হাসানরা ভালো শুরুর পরও খেই হারাচ্ছেন। তবে দেশের মাটিতে পরিচিত কন্ডিশনে তাদের কাছ থেকে আরেকটু ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা। রান করার মূল দায়িত্বটা অধিনায়ক শান্ত, মুশফিকুর রহিম আর মুমিনুল হকের কাঁধে। টেস্টে জিততে হলে প্রতিপক্ষের ২০টা উইকেট তুলে নেওয়ার বিকল্প নেই বটে, তবে সেই সময়টা দেওয়ার জন্য ব্যাটসম্যানদেরও রান করা দরকার যেটা ভারত সফরে হয়নি। শান্ত কাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে মিরপুরের এই মাঠে তার ব্যাটসম্যানদের কাছে বাড়তি প্রত্যাশা কারণ এখানেই বছরের বেশিরভাগ সময় জুড়ে খেলা এবং অনুশীলনে ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। তাই বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছেন শান্ত, ‘ওরা অভিজ্ঞ দল না ঠিক আছে, তবে তারা ভালো দল। (আমরা) সর্বশেষ ৪ টেস্টের দুটি জিতেছি, দুটি হেরেছি। পঞ্চাশ ভাগ জয়ের হার। ভারতে ভালো খেলিনি। দল খুব ভালো অবস্থানে আছে, বিশেষ করে টেস্ট দল। হোমে আমরা সবসময় ভালো করি। আমাদের যে বোলিং অ্যাটাক বা ব্যাটাররা আছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে ভালো টেস্টই হবে। দুই দলের জন্যই চ্যালেঞ্জ হবে। যারা সেশন বাই সেশন ভালো খেলবে তারাই জিতবে, তবে আমি অবশ্যই বাংলাদেশ দলকে একটু এগিয়ে রাখব।’

দেশের মাটিতে বাংলাদেশকে জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন স্পিনাররাই। সাকিব না থাকায় তাইজুল ইসলাম একাদশে আসবেন, সঙ্গে হাসান মুরাদের অভিষেক অথবা নাঈম হাসানের ফেরা। অলরাউন্ডারের ভূমিকায় মেহেদী হাসান মিরাজ তো আছেনই। সব মিলিয়ে স্পিনারদের ওপর ভরসাটা বেশি শান্তর, ‘স্পিনারদের বাড়তি ভূমিকা তো থাকবেই, সবসময় যেটা থাকে, অতীতেও দেখেছি। অতিরিক্ত কিছু আশা করছি না। অতীতে যেভাবে বল করেছে স্পিনাররা সেভাবেই বল করবে। প্রক্রিয়া যেন ঠিক থাকে। প্রতিটি বল যেন টিমের জন্য করি। বাড়তি কোনো কিছু চাই না স্পিনারদের কাছ থেকে। ২০ উইকেট নেওয়া প্রসেসের ব্যাপার। প্রসেস ঠিক রাখলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব।’ চেনা ২২ গজে শান্ত তাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী, ‘জয়ের জন্যই খেলব, উইকেট দেখেছি। মিরপুরের উইকেট যেমন হয় ওরকমই। এর বাইরে কিছু বলতে পারব না। সবার মিরপুরের উইকেট সম্পর্কে ধারণা আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কখনো জিতিনি, এটা বড় সুযোগ; হোমে খেলা, ভালো একটা দলও আছে। অবশ্যই চ্যালেঞ্জ থাকবে। তবে আমি মনে করি, ওদের সঙ্গে ভালো ফলাফল আসবে।’

প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করামের বাজি গত বছর বিপিএলে কয়েকটা ম্যাচ খেলে যাওয়া কেশব মহারাজ, ‘কেশব খুবই অভিজ্ঞ আর চালাক ক্রিকেটার। সবাই তাকে খোঁচাচ্ছে যতটা সম্ভব তথ্যের জন্য। আমাদের জন্য উইকেট আর কন্ডিশন যেমনটা আশা করে এসেছিলাম, সে রকমই। আমরা আসার আগে প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি। গা গরমের ম্যাচ না খেলাটা খারাপ কিছু নয়। আমরা প্রথম দিন থেকেই সতেজ থেকে শুরু করতে পারছি। আশা করি প্রস্তুতি আর অনুশীলনের অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগাতে পারব।’

উইকেট, কন্ডিশন সবই বাংলাদেশের চেনা। দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ বছর পর বাংলাদেশে এসেছে অনভিজ্ঞ এক দল নিয়ে। এই রকম একটা দলের বিপক্ষে যদি বাংলাদেশ জিততে না পারে, তাহলে আর কবে জিতবে!