মিরপুরে না থেকেও আছেন সাকিব

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আজ থেকে শুরু মিরপুরের এই টেস্ট ম্যাচটা দিয়েই সাদা পোশাকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানান জটিলতায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আসা হয়নি তার। বাংলাদেশ দলে সাকিবের বদলি খেলোয়াড় হিসেবে যোগ করা হয়েছে হাসান মুরাদকে। দলে না থেকেও দুই দলেরই ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনের অনেকটা অংশ জুড়েই ছিলেন সাকিব।

বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত যেমন মনে করেন, সাকিবকে দেশের মাটিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলার সুযোগটা দিতে না পারাটা দুর্ভাগ্যজনক, ‘অবশ্যই পরিকল্পনা ছিল আমাদের। বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় (সাকিব)। শুধু বাংলাদেশ বলব না। খুবই দুর্ভাগ্যজনক যেকোনো কারণেই হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, প্রত্যেকটা খেলোয়াড় মনে করে এটা পেন্ডিং থেকেই গেল।’ পাকিস্তান সফরের সময়ে সাকিবের নামে মামলার ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব ছিলেন অনেক ক্রিকেটার। কিন্তু এখন সাকিবকে দেশে আসতে না দেওয়ার ব্যাপারে কেন তারা নিশ্চুপ এমন প্রশ্নে শান্তর জবাব, ‘এ রকম কোনো কিছু না (ভয়ের কারণে ফেসবুকে পোস্ট দেননি কি না)। আগামীকাল একটা টেস্ট ম্যাচ শুরু হবে। আমরা সবাই জানি এখানে উনি শেষ টেস্ট খেলতে পারলে খুব ভালো হতো। ফোকাসটা ওই জায়গায় আনা হয়েছে যেন আমরা টেস্ট ম্যাচটা জিততে পারি। যত কথা বলব এখন কোনো কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা কম। আমরা সবাই জানি কেন উনি আসতে পারছেন না। এখন বর্তমান সময়ে যে রকম অবস্থা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেই সব সমাধান হয়ে যায়। আমিও ভাবছি প্রতিদিন একটা করে স্ট্যাটাস দেব।’ সাকিবের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনেও আছে ফেসবুক স্ট্যাটাসের অবদান! আওয়ামী লিগের সাংসদ থাকার কারণে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ফেসবুকে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারেননি মাগুরা-১ আসনের সাবেক জনপ্রতিনিধি সাকিব। তার এই চুপ থাকাটা সহজভাবে নেয়নি ভক্তরা, বিশেষ করে তরুণরা যারা মাঠে এসে সাকিবের জন্য গলা ফাটান। অভিমান থেকেই সাকিবের প্রতি যে বিরাগ, তারই চূড়ান্ত পরিণতি সাকিবের দেশে ফিরতে না পারা।

সাকিব না থাকায় একাদশ সাজাতে সমস্যা হবে, সেটা স্পষ্টই বলে দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘এখনো সমস্যা হচ্ছে কম্বিনেশন মেলাতে। অস্বীকার করার কিছু নেই। এই জায়গা ঠিক করতে কিছুদিন সময় লাগবে। যে খেলোয়াড়গুলো আছে সবার এই সামর্থ্য আছে যার যে জায়গা থেকে ভূমিকা পালন করবে।’ ঘরের মাঠে সাকিবের অনুপস্থিতি বেশি করেই টের পাবেন শান্ত, বলেছেন এমনটাই, ‘এই মুহূর্তে সাকিবের সমমানের বিকল্প পাওয়া কঠিন। উইকেট পরিবর্তন হবে না, তবে আগে যে রকম আমরা একটা ব্যাটসম্যান বা একটা বোলার বেশি নিয়ে খেলতে পারতাম সে রকমটা হবে না। সাতে যে ব্যাটিং করবে তার ভূমিকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে সাকিব ভাইকে রিপ্লেস করার মতো কেউ নেই, তবে মিরাজ (মেহেদী হাসান) খুব ভালো একটা বিকল্প হতে পারে, এই মুহূর্তে টেস্টে সে খুব ভালো করছে তবে তাকে আরও অনেকদূর যেতে হবে।’

সাকিবকে মিস করবেন কি না এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এইডেন মার্করামকেও। হাসতে হাসতে বলেছেন, ‘না তাকে আমরা মিস করব না! সে একজন খুব ভালো ক্রিকেটার আর খুবই অভিজ্ঞ। তবে সাকিবকে ছাড়াও বাংলাদেশ দলটা খুব শক্তিশালী আর এই কন্ডিশনে তারা খুব ভালো দল। আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে। সে একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার আর সে প্রতিপক্ষে নেই সেটা আমাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির।’

শেষ টেস্টটা এই মাঠেই খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব, নানান কারণে সেটা হয়নি। তবে তার অনুপস্থিতি হয়ে উঠেছে উপস্থিতির চেয়েও তীব্র। মাঠে এবং মাঠের বাইরেও।