বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ মানেই ছিলেন সাকিব আল হাসান। মোহাম্মদ রফিক-পরবর্তী সময়ে আবদুর রাজ্জাক, তারপর দীর্ঘ এক দশক ধরে স্পিন আক্রমণকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন সাবেক বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। তিনি দলে থাকা মানে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যানও দলে থাকা। তাই তার অবধারিত উপস্থিতির কারণে তাইজুল ইসলাম থেকে যান সাকিবের ছায়ায়। ঠিক যেমন বড় গাছের ছায়ায় থাকলে ছোটো গাছটা ঠিক নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে পারে না, তাইজুল ঠিক তাই।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট খেলে ক্রিকেটের কুলিন সংস্করণের ইতি টানতে চেয়েছিলেন সাকিব। বিসিবিও চেষ্টা করেছিল। তবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে সাকিবকে দেশে আসতে দেওয়া হয়নি। সোমবার সাকিবহীন টেস্টে সুযোগ পেয়ে নিজেকে নিয়ে যান অন্য উচ্চতায় পাঁচ উইকেট শিকারে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। যেটা আগেই ছুঁয়েছিলেন সাকিব।
তাইজুল সোমবার সাকিবকে ছাড়িয়ে গেছেন অন্য একটি ক্ষেত্রে। ২০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁতে সাকিবের লেগেছিল ৫৪ টেস্ট, তাইজুল সেটা ছুঁলেন ৪৮ টেস্টেই। ৭১ ম্যাচে ২৪৬ উইকেট সাকিবের। আর ৪৮ টেস্টে তাইজুলের উইকেট সংখ্যা ২০১। ৩২ বছর বয়সী এই স্পিনারের ক্যারিয়ার হয়তো আরও কয়েক বছর স্থায়ী হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিনি যে সাকিবকে এই সংখ্যার ক্ষেত্রেও ছাড়িয়ে যাবেন, সেটা বলাই যায়। ২০১৪ সালে টেস্ট অভিষেকের পর থেকেই দ্যুতি ছড়াচ্ছিলেন তিনি। তবে সাকিব থাকায় কম্বিনেশনের কারণে টেস্টের একাদশে সুযোগ পেতেন না অনেক সময়। যে কারণে পাকিস্তান ও ভারত সফরে সাকিব একাদশে থাকায় তিনি ছিলেন বেঞ্চে।
তাইজুলের দিনে সংবাদ সম্মেলনেও ছিল সাকিবের উপস্থিতি। তাইজুল বলেন, ‘সাকিব ভাইকে ছাড়া যে আমরা টেস্ট খেলিনি তা না। নিউজিল্যান্ডে টেস্ট জিতেছি, সাকিব ভাই ছিলেন না, আমরা যখন নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিলেটে ম্যাচ জিতেছি সেখানেও সাকিব ভাই ছিলেন না। এ রকম অনেক উদাহরণ আছে। আসলে আপনি তো একটা খেলোয়াড়কে ৫০ বছর খেলাতে পারবেন না। কখনো একজন আসবে, একজন যাবে। এটা আমাদের মেনে নিতেই হবে।’