গত মাসে ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহকে বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়ে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। তখন তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে হাশেম সাফিউদ্দিনকে বিবেচনা করা হচ্ছিল। এবার তাঁকেও হত্যার কথা জানাল ইসরায়েল।
গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে প্রায় সপ্তাহ তিনেক আগে বিমান হামলা চালিয়ে তারা সাফিউদ্দিনকে হত্যা করে।
পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল এবং বিবিসি।
সাফিউদ্দিনকে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে তিন সপ্তাহ আগে এক হামলায় হত্যা করা হয়। তবে এই প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হলো। এর আগে ইসরায়েলের দাবি ছিল, সাফিয়েদ্দিন সম্ভবত তাদের হামলায় মারা গেছেন
মঙ্গলবারের বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বৈরুতে সাফিউদ্দিনের সঙ্গে আলী হুসেইন হাজিমাকেও হত্যা করা হয়। আলী হুসেইন হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা সদর দপ্তরের কমান্ডার ছিলেন বলে জানায় ইসরায়েল।
গত ৪ অক্টোবর বৈরুতের বিমানবন্দরের পাশে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এরপর হিজবুল্লাহর কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সাফিউদ্দিনের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ করতে পারছেন না।
সে সময় ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল, সাফিউদ্দিনকে নিশানা করে ইসরায়েলি বাহিনী বোমা হামলা চালিয়েছে।
তবে সাফিউদ্দিনকে হত্যার বিষয়ে ইসরায়েলি দাবির ব্যাপারে লেবাননের শিয়াপন্থী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, সাফিউদ্দিন অনেক বছর ধরে ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী’ হামলা চালিয়ে আসছিলেন। তিনি হিজবুল্লাহর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন।
২০১৭ সালে সাফিউদ্দিনকে ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব।