পটুয়াখালীর বাউফলে নারীসহ এক যুবলীগ নেতাকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইদ্রিসমোল্লা ডিগ্রী কলেজের সামনের একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। ওই নেতার নাম মো. মিজান মোল্লাকে (৪২)। তিনি কালাইয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি। তার বিরুদ্ধে মাদক ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সরকারের সময় মিজান প্রতিনিয়ত ওই বাসায় নানা অনৈতিক কাজে জড়িত ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিজানকে এক হিন্দু নারী নিয়ে ওই বাসায় ঢুকতে দেখেন এক শিক্ষার্থী। বিষয়টি জানাজানি হলে অনেক লোকজন জড়ো হয়। একপর্যায়ে লোকজন ভবনের ভেতরে ঢুকে গেলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। বাহিরে অতিরিক্ত লোকজন দেখে একই ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা আটকে দেয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে নারীসহ মিজানকে আটক করা হয়। এ সময় এ ঘটনায় সহযোগীতা করার অভিযোগে ওই কক্ষে বসবাসরত অপর এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এতে ঘটনাস্থালে ব্যপক উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মিজানকে উদ্ধার করতে আহত হন কয়েকজন পুলিশ সদস্য।
অভিযোগ অস্বীকার করে কালাইয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মিজান মোল্লা বলেন, ‘তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছু লোক তাকে মারধর করেন। আত্মরক্ষার জন্য তিনি দৌড়ে এই রুমে প্রবেশ করেন। এখানে কোনো নারী সংক্রান্ত বিষয় নেই। তিনি মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত না।’
ওই নারীও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তাকে ডেকে এনে জোর করে কিছু লোক এই বাসায় ঢুকিয়েছেন।’
এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন বলেন, 'অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবলীগ নেতাকে মিজান মোল্লাকে স্থানীয়রা আটক করে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নারীসহ তাকে আটক করি। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও জমি দখলসহ বেশকিছু অভিযোগ আছে। জিজ্ঞাবাদে অভিযোগের বিষয় সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।'