আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সাত বিভাগে শুরু হচ্ছে ১০-১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান কর্মসূচি। আগামী ১৮ দিন সরকার এসব কিশোরীদের বিনামূল্যে এই টিকা দেবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে www.vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে টিকার জন্য নিবন্ধন করা যাবে। যারা নিবন্ধন করতে পারবেন না তাদের কেন্দ্রে গেলে নিবন্ধন করানো হবে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় এই টিকাদান চলবে। এ সময় ৬২ লাখ ১২ হাজার ৫৩২ জন কিশোরীকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
পঞ্চম থেকে নবম বা সমতুল্য শ্রেণির কিশোরীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইপিআই কেন্দ্রে এই টিকা নিতে পারবে। স্কুলবহির্ভূত কিশোরীরা টিকা পাবে ইপিআই কেন্দ্রে। এর আগে গত বছর ঢাকা বিভাগের প্রায় ১৫ লাখ কিশোরীকে এইচপিভি টিকার একটি ডোজ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. রাজিব সরকার জানান, নারীদের ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যান্সার। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৮ হাজার ২৬৮ জন নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং তার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯৭১ জন নারী মারা যান। সাধারণত হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) দ্বারা সংক্রামিত হওয়া থেকে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের লক্ষণ প্রকাশ পেতে ১৫-২০ বছর সময় লাগে। এজন্য এই রোগকে নীরব ঘাতক বলা হয়। আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশই প্রায় শেষ পর্যায়ে শনাক্ত হন যখন রোগ থেকে সেরে ওঠা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। কিশোরীদের নির্দিষ্ট বয়সে এক ডোজ এইচপিভি টিকা প্রদান করলে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।