আমরা ক্ষমতা চাই না, জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী: গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আমরা ক্ষমতা চাই না, জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। জনগণ যাকে ভোট দেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরই বৈধ অধিকার। সরকার বদলে গেছে আমি-আপনি আগের মতোই আছি, আমাদের কোর্টে হাজিরা দিতে হয়, আমাদের নামে ওয়ারেন্ট হয়। তাহলে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করে আমাদের কি লাভ হলো? দলীয় সরকার থাকলে তো আমরা বিরোধী দল হতে পারতাম, এখন সেই সুযোগও নেই। মনে রাখবেন বিএনপিকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই, জনগণের শক্তি আছে বলেই বিএনপি এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। খালেদা জিয়ার মামলা আগে যেভাবে ছিল, এখনো সেভাবেই বহাল আছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে ‘দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাগ্রত বাংলাদেশের সভাপতি ও দৈনিক খোলাবাজার পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. জহিরুল ইসলাম কলিমের সভাপতিত্বে ও জাগ্রত বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন শাহীনের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক এস এম মিজানুর রহমান, প্রজন্ম একাডেমির সভাপতি লেখক ও গবেষক কালাম ফয়েজী, জাসাস জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খালেদ এনাম মুন্না, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক রমিজ উদ্দিন রুমি, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মনিরুল ইসলাম সোহাগ, আসাদুজ্জামান বাবুল, রাজু আহমেদ শাহ, এস এম কমর উদ্দিন, মো. কবির হোসেন প্রমুখ।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৫ বছর নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হয়েছে। হাজার হাজার মামলা মাথায় নিয়ে ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়েছে। এখনো তাদের বিরুদ্ধে সেই মামলা বহাল রয়েছে। কেবল স্বৈরশাসক হাসিনার পতন হওয়ার পর ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষ কোনও পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছে না। তাদের মনে হয় আগে যেমন ছিল এখনও তেমনই রয়েছে। আপনি যদি পরিবর্তন ঘটাতে না পারেন তাহলে বেশীদিন ক্ষমতা ধরে রাখা ঠিক হবে না। আপনারা যদি মনে করেন জনম জনম ধরে ক্ষমতায় থাকবেন তাহলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসুন।

তিনি বলেন, হাসিনা দীর্ঘদিন স্বৈরশাসন চালিয়েছে, কিন্তু কোনও ব্যক্তিকে তো নিষিদ্ধ করে নাই। আপনারা নিষিদ্ধ করতেছেন, সেটার ইফেক্ট মনে রেখেই করবেন বলে আশা করি। পাপকে ঘৃণা করেন পাপীকে না। যারা পাপ করেছে আপনারা তো তাদের শাস্তি দিতে পারলেন না। এতগুলো পাপী লোক কিভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে পার হয়ে গেল ? আপনারা কেন তাদের আদালতে হাজির করতে পারলেন না। কেন তাদের বিচার হলো না? অজুহাত আগেও আমরা শুনেছি, এখন সেই অজুহাত আমরা আর শুনতে চাই না।

উপদেষ্টাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, মনে হয় তারা একে অন্যকে চেনে না। তারা এর আগে ৫ জন একত্রে চা খেয়েছে তাদের দেখে সেটাও মনে হয় না। এত মানুষের রক্তের মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তন এলো তাতে কয়জন মানুষ উপদেষ্টা হলেন, তারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন না। মনে রাখতে হবে, দেশ কোনও গোষ্ঠির না, দেশ জনগণের। জনগণ ঠিক করবে কারা দেশ পরিচালনা করবে। আপনাদের উচিত রাজনৈতিক দলের পরামর্শ নেওয়া। একটি দলের লোকেরা মন্দিরে গিয়ে গীতা পাঠ করে নিজেদের সেক্যুলার প্রমাণ করার চেষ্টা করে। তাতে নিজের ধর্ম ঠিক থাকে কি না সেটা একটু ভেবে দেখবেন। আগে নিজের ধর্মের প্রতি আস্থাশীল হোন। অন্যের ধর্মকে সম্মান করুন। তাহলেই মন্দিরে গিয়ে গীতা পাঠ করার প্রয়োজন পড়বে না। তারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেনি। আজ তারা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। তাদের কথায় নির্বাচনের জন্য কালক্ষেপণ করা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, যারা শেষ ১০ দিন আন্দোলন করেছিল, তারা এখন দেশের মালিক। তারা মনে করে সব কৃতিত্ব তাদের। কিন্তু যারা ১৫/১৬ বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, দয়া করে তাদের কথাটাও একটু মনে রাখবেন। আমরা আগেও সৈনিক ছিলাম, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা সবসময় জনগণের সৈনিক হয়ে থাকতে চাই, কখনো সেনাপতি হতে চাই না। জিয়াউর রহমান দেশের বেহাল অবস্থায় অল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় এসেছিলেন। তিনি দ্রুত সংস্কার করে জনগণের অধিকার জনগণের মাঝে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আপনারা জিয়াউর রহমান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। তারেক রহমান আন্দোলনের প্রতিটি স্তরে একজন সেনাপতির মতো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশ রক্ষার প্রয়োজনে দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন। নতুবা দেশি-বিদেশি চক্রান্ত আপনারা মোকাবেলা করতে পারবেন না।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, পরিস্থিতি দিনদিন ঘোলাটে হচ্ছে। মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। এ অবস্থার মধ্যে থাকার জন্য জনগণ আন্দোলন করেনি। যখন দেশে গণতন্ত্র থাকে না, তখন ষড়যন্ত্র হয়। আপনারা বিএনপিকে ঠেকাতে চান, হাসিনা বিএনপিকে ঠেকাতে গিয়ে নিজেই হারিয়ে গেছে। আপনারা বিএনপিকে ঠেকানোর চেষ্টা করবেন না। দেশ পরিচালনার জন্য গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। আপনারা নির্বাচনের পথে হাঁটুন, দ্রুত নির্বাচন কমিশন সংস্কার করে নির্বাচন দিয়ে দিন। যদি ক্ষমতায় থাকতে চান আপনারাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবীব বলেন, আমরা যে ছাত্রলীগকে দেখেছি সেই ছাত্রলীগ এখন নেই, এই ছাত্রলীগ হেলমেট বাহিনী, লুটেরা এবং ধর্ষকদের সংগঠন। এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করাকে আমি সমর্থন করি। একইভাবে যে আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সেই আওয়ামী লীগ নয়। এই আওয়ামী লীগ দেশকে ধ্বংস করেছে, দেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করেছে, মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি মনে করি কমপক্ষে ১৫ বছর এই দলকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। এক অর্ডারের মাধ্যমে রাজনৈতিক সব মামলা প্রত্যাহার করে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। দ্রব্যমূল্য কমাতে পারেন না, অথচ সংস্কার সংস্কার করে সময়ক্ষেপণ করছেন। এতে অস্থিরতা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।