প্লাস্টিকের বিনিময়ে ব্যাগভর্তি বাজার পেল ৩ শতাধিক নারী-পুরুষ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৩:৩২ পিএম

দিনাজপুরে প্লাস্টিকের বিনিময়ে নিত্যপণ্য কেনার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী দিনাজপুর শহরের যোগেনবাবুর মাঠে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সারাদিন প্রায় ৩ শতাধিক নারী-পুরুষ প্লাস্টিকের বিনিময়ে নিত্যপণ্য কেনার কার্যক্রমে অংশ নেন।

সরেজমিন দেখা যায়, ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে যোগেন বাবুর মাঠে ৩০০ প্রান্তিক পরিবার তাদের কুড়ানো প্লাস্টিক নিয়ে এসেছে নিত্যপণ্য ক্রয় করতে। তারা বাজার মূল্যের চেয়েও দ্বিগুণ দামে প্লাস্টিক বিনিময় করে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য বাছাই করে ক্রয় করেছেন। এ ছাড়া স্কুলশিক্ষার্থীরাও কুড়ানো প্লাস্টিকের বোতলের বিনিময়ে পাচ্ছে শিক্ষা উপকরণ।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, প্লাস্টিক দূষণ একটি ব্যাপক পরিবেশগত সমস্যা, যা বিশ্বব্যাপী বাস্তুতন্ত্র, মানব স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশে এ চ্যালেঞ্জটি বর্তমানে পৌঁছেছে উদ্বেগজনক পর্যায়ে, যা শহর ও গ্রামীণ উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৬ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্যাপক চাপের সম্মুখীন। দেশে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। যার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ নদী, খাল এবং বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে। থ্রি আর কৌশল তথা রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল বা ব্যবহার হ্রাস, বারবার ব্যবহার ও নতুন করে অন্য কিছু তৈরি করার কৌশল অবলম্বন করে প্লাস্টিকের চক্রাকার ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করা সম্ভব। সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অসংখ্য তৃণমূল আন্দোলন এবং সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এবং সুশীল সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং প্লাস্টিকের টেকসই বিকল্প প্রচারে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী রানা আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা এতই ব্যাপক যে এটি সরকারের একার পক্ষে রোধ করা অসম্ভব। এই দূষণ কমাতে দরকার ব্যাপক জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা। তাই মানুষকে সম্পৃক্ত করতেই আমরা সারা দেশে প্লাস্টিক এক্সেঞ্জ স্টোর চালু করছি। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আমরা অবহিত করেছি। আশা করছি এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্লাস্টিকের ভয়াবহতা সম্বন্ধে আমরা জনগণকে ধারনা দিতে পারব ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে আমাদের এই আইডিয়া বাস্তবায়নে সরকারও এগিয়ে আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত