বায়ার্ন জুজু কাটিয়ে ‘প্রতিশোধ’ নিল বার্সেলোনা

চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে বার্সেলোনা মাঠে নামলে হারবে ২০১৫ সালের পর থেকে এটিই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর মধ্যে বায়ার্নের কাছে ৮-২ গোলে হারের রেকর্ডও আছে। এতদিন পর যেন সেই হারের প্রতিশোধটাই নিল বার্সেলোনা। অলিম্পিক স্টেডিয়ামে রাফিনহার হ্যাটট্রিকে বার্সেলোনা ৪-১ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখকে। বায়ার্ন জুজু কাটিয়ে রাফিনহা বললেন, ‘প্রতিশোধ’।

ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতাটিতে বায়ার্নের বিপক্ষে টানা ছয় ম্যাচ হারের পর জয়ের স্বাদ পেল বার্সেলোনা। সময়ের হিসেবে ৯ বছর পর বাভারিয়ানদের হারাল বার্সা। এর আগে বায়ার্নের বিপক্ষে ২০১৫ সালের মে মাসে ক্যাম্প ন্যুতে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে লিওনেল মেসির জোড়া ও নেইমারের গোলে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল কাতালানরা।

ঘড়ির কাঁটায় ম্যাচের সময় তখন ৫৮ সেকেন্ড। মাঝমাঠে ফের্মিন লোপেসের বাড়ানো বল ক্লিয়ার করার চেষ্টায় পারেননি বায়ার্নের এক ডিফেন্ডার। বল ধরে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা ম্যানুয়েল নয়্যারের বাধা এড়িয়ে বল জালে পাঠান রাফিনহা। দশম মিনিটে হেডে বার্সার জালে বল পাঠিয়ে উল্লাসে মাতেন কেইন। তবে ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। আট মিনিট পর নাব্রির পাস থেকে বায়ার্নকে সমতায় ফেরান হ্যারি কেইন। এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচে তার গোল হলো পাঁচটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে ১১ ম্যাচে কেইনের গোল ১৪টি।

২৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে লেভানডফস্কির নিচু শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৩৬ মিনিটে ফের্মিনের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে লেভা। পোলিশ তারকার গোল হলো তিনটি। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে তার গোল এখন ৯৭টি। এই মৌসুমে ১৩ ম্যাচে ১৫ গোল লেভানডফস্কির।

প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-১ করেন রাফিনহা। ৫৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। পেশাদার ক্যারিয়ারে এটি রাফিনহার দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে হ্যাটট্রিক করা চতুর্থ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার তিনি। আগের তিনজন হলেন রিভালদো, রোনালদিনহো ও নেইমার।

ম্যাচ শেষে রাফিনহা প্রতিশোধ নেওয়া নিয়ে বলেন, ‘এটা ভক্তদের কাছে প্রতিশোধ। আমরা খেলোয়াড়রা অতীতে তাকাই না, লক্ষ্য থাকে পরের ম্যাচে। কিন্তু ভক্ত হিসেবে আমিও সেসব (হারের) ম্যাচে ভুগেছি।’ নিজের ও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে রাফিনহা বলেন, ‘ক্লাবের হয়ে শততম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করায় রাতটা অসাধারণ ও বিশেষ। দলের পারফরম্যান্স ও আমি যেভাবে খেলেছি, সেটা নিয়ে সন্তুষ্ট। ম্যাচের আগে বলেছিলাম, এটা হতে পারে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল। সবাই হয়তো এই কথা মানবে না, তবে ব্যাপারটা এমন কিছুই ছিল। তাই ভক্তদের সামনে এভাবে জিততে পারাটা বিশেষ কিছু এবং আমি খুব খুশি।’

মজার বিষয় হলো, বার্সেলোনা যেবার ৮-২ গোলে হেরেছিল, তখন বায়ার্নের কোচ ছিলেন ফ্লিক। এবার ফ্লিক ছিলেন বার্সার ডাগআউটে। বার্সেলোনার পরবর্তী ম্যাচ আগামী রবিবার লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে। তার আগে এমন জয়ে বেশ ফুরফুরে থেকেই ‘এল ক্লাসিকো’ খেলতে নামবে বার্সেলোনা। বায়ার্ন টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারল নতুন ফরম্যাটের চ্যাম্পিয়নস লিগে। এর আগে বাভারিয়ানরা হারে অ্যাস্টন ভিলার কাছে।

ম্যানসিটির পাঁচ গোল : চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা দ্বিতীয় জয় পেল ম্যানচেস্টার সিটি। ইংলিশ লিগ চ্যাম্পিয়নরা ৫-০ গোলে হারিয়েছে স্পার্তা প্রাগকে। সিটির হয়ে জোড়া গোল করেন আর্লিং হালান্ড। একটি করে গোল করেন ফিল ফোডেন, জন স্টোনস ও মাথিয়াস নুনেস। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ডি-বক্সে কড়া পাহারার মধ্যে শূন্যে লাফিয়ে ব্যাকহিল ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে হালান্ড। নিজ দল তো বটেই, প্রতিপক্ষ কোচেরও প্রশংসা কুড়িয়েছেন হালান্ড।

সতীর্থ ফিল ফোডেন হালান্ডের গোলটি নিয়ে বলেন, ‘তাকে (হালান্ডকে) কেবল বলেছি, এটা করার চেষ্টা করলে আমার কুঁচকিতে টান পড়ত। আমি জানি না, সে কীভাবে এটা করেছে। আমার মনে হয়, এটা তার লম্বা পায়ের কারণে সম্ভব হয়েছে। সে অবিশ্বাস্য একজন, তাই না?’

লিভারপুলের রেকর্ড : এবার নতুন ফরম্যাটে শুরু হওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচই জিতেছে দুটি ক্লাব। অ্যাস্টন ভিলা অন্যটি লিভারপুল। গত বুধবার রাতে অল রেডরা ১-০ গোলে হারিয়েছে আরবি লাইপজিগকে। লিভারপুল এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও আট রাউন্ড শেষে আছে শীর্ষে। এই মৌসুমে প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথম ছয় ম্যাচেই জিতল অল রেডরা। লিভারপুলের ১৩২ বছরের ইতিহাসে যা এবারই প্রথম।

সব মিলিয়ে সøটের অধীনে এখন পর্যন্ত ১২ ম্যাচ খেলেছে লিভারপুল, জয় ১১টিতে। ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের ইতিহাসে প্রথম কোচ হিসেবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজের প্রথম ১২ ম্যাচের ১১টিতেই জিতলেন সøট।