নিজেদের বানানো উইকেটই পড়তে পারেনি বাংলাদেশ

নিজেদের চেনা কন্ডিশন, ঘরের মাঠের উইকেটটাও মুখস্থ; এই ভাবনাই যেন কাল হলো বাংলাদেশের। মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটের দিকে তাই বোধহয় ভালো করে চেয়ে দেখেননি নাজমুল হোসেন শান্তরা। না হলে অতিথি দল উইকেট পড়ে ফেলল আর বাংলাদেশ পারল না!

ম্রিয়মাণ ব্যাটিং আর এক পেসার নিয়ে মাঠে নামার কৌশলগত ভুলের কালো ছায়া যেন পুরো ম্যাচে জড়িয়ে ছিল। ম্যাচ শেষে দলের সেরা পারফরমার মেহেদী হাসান মিরাজের মন্তব্যগুলোও ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ জানতে চাইলে মিরাজ বলেন, ‘ডিসিশন মেকিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু জায়গায় আমাদের ঘাটতি আছে, যার কারণে ব্যাটিংয়ে ফল্ট করছি। বিশেষ করে টপ অর্ডার থেকে ভালো শুরু পেলে পরে ব্যাটারদের জন্য কাজটা সহজ হতো।’ পাকিস্তানের সঙ্গে প্রথম টেস্টের উদাহরণ টেনে তিনি ব্যাখ্যা করেন কীভাবে একটি ভালো শুরুর অভাবে দল পিছিয়ে যায়, আর নতুন বলে পাঁচ বা ছয় নম্বর ব্যাটারদের নামা যে কতটা কঠিন সেটা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেছেন, ‘পাকিস্তানে প্রথম টেস্টে টপ অর্ডার, মানে তিন-চার নম্বর থেকে শুরু করে ভালো একটা স্টার্ট দিয়েছিল। ওপেনাররাও একটা ভালো শুরু দিয়েছে, তারাও ভালো খেলেছে। পরে যারা ছিল তাদের কাজটা সহজ হয়ে যায়। টেস্ট ক্রিকেটে আপনি দেখেন যে পাঁচ-ছয়ের ব্যাটার যদি নতুন বল খেলতে হয়, তাহলে একটু কঠিন হয়ে যায়। অবশ্যই সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। যে টপ অর্ডাররা কীভাবে সফল হতে পারে, বেশিরভাগ টেস্ট ক্রিকেটে যেন সফল হতে পারি, সেজন্য আমরা কথা বলছি। আশা করছি সামনে যে টেস্টগুলো আছে, আমরা বুঝতে পারব যে, আমাদের কোন জায়গায় অভাবগুলো আছে।’

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ১০৬ রানে অলআউট হয়, যা পুরো ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। মিরাজের কণ্ঠে হতাশার সুর ফুটে ওঠে, যখন তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ইনিংসের রান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ব্যাট হাতে পিছিয়ে পড়ায় পরে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারিনি।’

ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি মিরাজ টিমের পরিকল্পনা ও এক্সিকিউশন নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দলগত পারফরম্যান্সের অভাবে সাফল্য আসেনি। ‘এক-দুইজন ভালো খেললে দলীয় ফল পাওয়া যায় না’ বলেন মিরাজ। তিনি মনে করিয়ে দেন কীভাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে দলগত প্রচেষ্টায় সাফল্য এসেছিল, কিন্তু এবার সেই প্রয়াস দেখা যায়নি।

মিরাজ ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নেওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে বোর্ডে রান না দিলে বোলারদের কাজ কঠিন হয়ে যায়। এ জায়গায় দলের ব্যাটসম্যানদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, বড় স্কোর গড়তে হবে, যাতে বোলাররা চাপমুক্ত থেকে বোলিং করতে পারে।’ আত্মসমালোচনাও করেন তিনি, ‘আমি যদি ভালো খেলতে পারি, দল উপকার পাবে।’

এক পেসার নিয়ে খেলার প্রশ্নবিদ্ধ কৌশল নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমরা যেমন ভাবছিলাম উইকেটে টার্ন হবে, সেটা হয়নি। স্পিনারদের ওপর নির্ভরতা ছিল পরিকল্পনার অংশ, কিন্তু বাস্তবে তা কাজে লাগেনি।’ মিরাজ নিজেও সেই কৌশল থেকে সুবিধা করতে পারেননি, যা দলের পরাজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেঞ্চুরি মিস হয়ে গেলে একজন ব্যাটারের খারাপ লাগে, অবশ্যই খারাপ লাগছে। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমি যে পরিকল্পনা নিয়ে খেলছিলাম সেটা যদি সঠিকভাবে এক্সিকিউট করতে পারতাম, তবে আরও ভালো লাগত।’

ব্যাটিংয়ে তার উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রমের কথা বলেন মিরাজ, যা তাকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করেছে। তার বিশ্বাস, দলের ব্যাটাররা যদি এই মনোভাব ধরে রাখতে পারে, তবে সামনের টেস্টগুলোয় তারা ভালোভাবে ফিরতে পারবে।