চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং হতাহতের ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ৭২ ঘণ্টার সময় বেধে দিয়েছে ঢাকার মোহাম্মদপুরে একদল মানুষ। শনিবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে একটি দল থানায় গিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে এই আল্টিমেটাম দেন। এর মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে থানায় অবস্থানের ঘোষণাও দেন তারা। এসময় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়।
তারা জানান, ৫ অগাস্টের পর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়ে গেছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি চেয়ে মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে এডিসি ও ওসির কাছে দাবির কথা তুলে ধরেছেন তারা। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণ ও সহায়তা চেয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে রোববার পুলিশ বৈঠক করতে চেয়েছে বলে জানান তারা।
তারা আরও জানান, একটা সময় নির্ধারণ করে পুলিশের সঙ্গে বসবেন। আর পুলিশ বলেছে তিন দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবে।
মোহাম্মদপুরবাসীর পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে জানানো পাঁচটি দাবি হলো-
১. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মোহাম্মদপুর সংশ্লিষ্ট এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
২. মোহাম্মদপুরের সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকায় পুলিশের টহল বাড়াতে হবে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তদের ব্যাপারে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিশ্চিত করতে হবে।
৪. কিশোর গ্যাং, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ‘অপতৎপরতা’, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে:
৫. জনসাধারণের নিরাপত্তা আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা ও তাদের হয়রানি বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয়দের দাবিগুলোকে যৌক্তিক মন্তব্য করে ঢাকা মহানগর পুলিশ- ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয়দেরও সহায়তা চেয়েছেস। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি ফোর্স মোতায়েনসহ টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, তাদের প্রত্যেকটা দাবির সঙ্গেই আমরা একমত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা স্থানীয়দের সহায়তা চেয়েছি। স্থানীয়দের সঙ্গে কীভাবে কী করা যায় এসব আলোচনার জন্য আমরা বসব।
উল্লেখ্য গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুলিশের কর্মবিরতি যাওয়ার পর ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাত আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল। মোহাম্মদপুর তার বাইরে ছিল না। ওই সময় রাত জেগে বা দিনের বেলায় স্থানীয়রা পাহারা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।