লোকসংকট, অব্যবস্থাপনাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মেডিকেল সেন্টার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ হাজার ৯২৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে চিকিৎসক আছেন মাত্র পাঁচজন। তারাও আবার নিয়মিত থাকেন না মেডিকেল সেন্টারে। সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঁচ ঘণ্টা মেডিকেল সেন্টার খোলা থাকলেও তারা কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চলে যান। এ ছাড়া প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ পেলেও মেডিকেল সেন্টারে নেই প্রয়োজনীয় ওষুধ। ফলে ব্যাহত হয় শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় ছোট পরিসরে এই মেডিকেল সেন্টারটিতে পাঁচজন ডাক্তার, একজন সিনিয়র নার্স এবং একজন সহকারী রেজিস্ট্রার কর্মরত আছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবছর মেডিকেল সেন্টারের জন্য ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুই লাখ টাকা সরঞ্জাম ও বাকি চার লাখ টাকা ওষুধ কেনা বাবদ খরচ হয়। প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয় ওষুধ কেনার জন্য। এতে ১২ পদের ওষুধ কেনা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর তুলনায় অপর্যাপ্ত বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
এদিকে গত বছর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি থেকে শিক্ষার্থীদের সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে কিছু আধুনিক মেডিকেল সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বেড, একটি এক্স-রে ভিউ বক্স, একটি ইসিজি মেশিন এবং একটি অপারেশনসামগ্রী জীবাণুমুক্ত করার অটোক্লেভ মেশিন। তবে অপারেটর ও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করতে পারছে না কর্র্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ডাক্তাররা নিয়মিত মেডিকেল সেন্টারে আসেন না। এতে শিক্ষার্থীদের সেবা না পেয়ে চলে আসতে হয়। এ ছাড়া চিকিৎসকরা যেসব ওষুধ লেখেন, তার অধিকাংশই মেডিকেল সেন্টারে পাওয়া যায় না।
তানভীর হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের আশপাশে বসবাস করেন। বিভিন্ন সময় কেউ নিম্ন রক্তচাপ, কেউ উচ্চ রক্তচাপ, কেউ রক্তশূন্যতা, সর্দি, জ¦রসহ নানা রোগে আক্রান্ত হলে মেডিকেল সেন্টারে যান। তবে সেখানে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের ক্যাম্পাস থেকে ১১ কিলোমিটার দূরের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ ছাড়া বেশিরভাগ রোগের ওষুধও নেই ক্যাম্পাসের মেডিকেল সেন্টারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী মো. আসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা দিতে ব্যর্থ। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে মেডিকেল সেন্টারে এলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও চিকিৎসকের অভাবে সঠিক সেবা পাচ্ছেন না।
ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘সরঞ্জাম ব্যবহার করতে অপারেটর লাগবে, যা আমাদের এখানে নেই। এ ছাড়া এখানে ডাক্তারেরও সংকট রয়েছে। ওষুধের বাজেট বৃদ্ধি, বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ডিউটি দেওয়ার জন্য দুজন চিকিৎসক, দুজন নার্স, দুজন ফার্মাসিস্ট এবং দুজন অফিস সহায়ক নিয়োগের জন্য আমরা আবেদন করেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী বলেন, ‘এ ব্যাপারে ডাক্তারদের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তব্যরত ডাক্তাররা এখানে চাকরি করার পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে প্র্যাকটিস করেন। তাদের রিফর্ম করা যাবে না, বেশি চাপ দিলে তারা চাকরি ছেড়ে চলে যাবেন। এ ক্ষেত্রে আরও ডাক্তার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, যারা বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ডিউটি করবেন। আমরা ওষুধের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছি।’
শুক্র-শনিবার মেডিকেল সেন্টারে ডাক্তার থাকবেন কি না সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমার একার সিদ্ধান্তে হবে না, আলোচনা করে দেখব।’
