সেন্ট অ্যান্ড মিলারের চাকরি ছেড়ে দেয় শ্যাম। মাঝরাতে টেবিল ল্যাম্পের আলোয় লিখে ফেলে ইস্তফাপত্র। আর একটি চিঠি লিখেছিল মাকে— ‘চাকরি গিয়াছে। আমার উপর আর খুব ভরসা করিও না।’
তারপর গোটা একটা জীবন। আর একাকীত্ব। জীবনের আলো-আঁধারি রহস্য চিনতে শেখা। যেন আত্মবিষে মগ্ন জীবন থেকে এক অন্যতর পথে হাঁটা। কয়েক দশক আগে ‘ঘুণপোকা’র আখ্যান নিজের লেখা শব্দে তিলে তিলে নির্মাণ করেছিলেন কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। সেই গল্পই এবার বড়পর্দায় আসছে পরিচালক পলাশ দের হাত ধরে।
এই পরিচালক এর আগে ‘তরঙ্গ’, ‘অসুখওয়ালা’ বানিয়েছেন। অরোরা ফিল্মস প্রযোজিত ‘ওস্তাদ’ সিনেমাটিও তার তৈরি। ‘ঘুণপোকা’র স্বত্ব পরিচালক কিনেছেন গতবছর। তিনি বলেন, যখন থেকে লেখালেখি শুরু করেছি, পড়তে শুরু করেছি, তখন থেকেই ঘুণপোকা আমার অন্যতম পছন্দের একটা গল্প। তা নিয়ে সিনেমা তৈরি করব ঠিক করেছিলাম। প্রস্তুতিও শেষ।
শুটিং কবে থেকে শুরু হচ্ছে? পলাশ জানান এখনও প্রযোজক নিশ্চিত হয়নি। কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে ফাইনাল হয়নি। প্রযোজক পেয়ে গেলেই বাকি কাজ এগিয়ে যাবে।
শ্যামের চরিত্রে টলিউডের নামী অভিনেতার সঙ্গে কথা হয়েছে পরিচালকের। তবে প্রযোজনা সংক্রান্ত বিষয় চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নাম প্রকাশ করতে চান না।
এদিকে ‘হীরের আংটি’, ‘কাগজের বউ’ থেকে গোয়েন্দা শবর, শীর্ষেন্দুর একাধিক কাহিনি সিনেমার পর্দায় দেখা গেছে। তবে ‘ঘুণপোকা’ নিয়ে বাঙালি পাঠকদের বাড়তি প্রত্যাশা থাকবে। ছোটগল্পে প্রসিদ্ধি লাভের পর এই নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্যে দিয়েই নিজের আগমনের বিজয়ধ্বনি ঘোষণা করেছিলেন শীর্ষেন্দু , যা বাংলা সাহিত্যে এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছিল।