এখন আধা সংবিধান, আধা বিপ্লবী চেতনায় সরকার চলছে: রাশেদ খাঁন

অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দ্যেশ্যে করে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন বলেছেন, আপনারা এখন রাষ্ট্রপতিকে সরাতে চান। কিন্তু সেটা তো শপথ নেওয়ার আগে দরকার ছিল। এখন রাষ্ট্রপতিকে সরতে হলে আপনারাও তো অবৈধ হয়ে যাবেন। কারণ যার হাতে শপথ নিয়েছেন, সে না থাকতে পারলে আপনারা কিভাবে থাকবেন?

আজ রবিবার বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যলয়ের সামনে গণমানুষের জন্য বসানো 'স্বস্তির হাট' উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম জাতীয় সরকার গঠন না করলে টিকতে পারবেন না। কথা শোনেন নাই। এখন কেন আপনাদের কথা দলগুলো শুনবে? আপনারা বিপ্লবী চেতনা ধারণ করেন না। করলে তো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন না করে, বিপ্লবী সরকার গঠন করতেন৷ এখন আধা সংবিধান, আধা বিপ্লবী চেতনায় সরকার চলছে।

রাশেদ খাঁন বলেন, সরকার জন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারছে না। দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশছোঁয়া, মানুষের নাভিশ্বাস উঠা শুরু হয়েছে। সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম্য ভাঙতে না পারলে সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে না। ইতোমধ্যে সরকারের সমালোচনা ব্যাপকমাত্রা ধারণ করেছে। এখনো পর্যন্ত শহীদের সঠিক তালিকা তৈরি হয়নি, শহীদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। এখন মানুষ হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। কেন গুরুতর আহদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হলো না? জনগণ কিন্তু ক্ষুধার্ত পেটে রাষ্ট্র সংস্কারেট গল্প শুনতে চায় না। সুতরাং বাজারে যান, সিন্ডিকেট ভাঙেন। রাস্তায় হাঁটেন মানুষের কথা শোনেন। আপনারা তো মানুষের কথা শুনছেন না। রাজনৈতিক দলগুলোকে দূরে রেখে দেশ চালানো সম্ভব?

পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সভাপতি জাফর মাহমুদ বলেন, আমরা সারা দেশে স্বস্তির হাট চালু করব। এটাই আমাদের প্রতিবাদ। সরকার যা পারছে না, আমরা তা করে দেখাতে চাই। আমাদের এখানে সবজির দাম; বেগুন ৫৫ টাকা কেজি, করলা ৬০ টাকা কেজি, লাউ ৩৫ টাকা পিস, কাচামরিচ ১৪০ টাকা কেজি, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা কেজি, আলু ৫৭ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি, লেবু হালি ১৫ টাকা, ফুলকপি ২০ টাকা পিস, ঢেড়স ৫৬ টাকা কেজি, পটল ৬০ টাকা কেজি, পেঁপে ২০ টাকা কেজি।

পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খালিদ হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তারা বক্তব্য রাখেন। পেশাজীবী অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক রেজওয়ানের উদ্যোগে চালু হয়েছে এই স্বস্তির হাট। আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য শহিদুল ইসলাম ফাহিম, গণনেতা ইলিয়াস মিয়া, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা সম্পদ প্রমুখ।