গাজায় চলছে কৌশলগত গণহত্যা

ফিলিস্তিনের প্রতিটি মানুষই মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের ঘোষিত এবং কার্যকর করা গণহত্যায় গাজা উপত্যকার সমগ্র বাসিন্দা মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলের এমন নৃশংস হত্যাযজ্ঞের সমালোচনা করেছে কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলি হামলা বন্ধে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া গাজার পূর্ণ জনসংখ্যাকে পদ্ধতিগতভাবে নির্মূল বন্ধেও যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

গাজায় ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংগঠন ‘বিশেষাধিকার এবং সুরক্ষা’ বাতিল করতে ইসরায়েলের একটি খসড়া বিলের নিন্দা করেছেন সাত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। গতকাল রবিবার জাপান, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা খসড়া ইসরায়েলি আইনের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে। গাজায় ইউএনআরডব্লিউএর কাজকে জীবনরক্ষাকারী বলে অভিহিত করেছেন মন্ত্রীরা। সংস্থাটির পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে এরই মধ্যে সংকটময় ও দ্রুত অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতিতে বিশেষ করে উত্তর গাজায় ‘বিধ্বংসী প্রভাব’ পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। গাজায় ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বিলটি নিয়ে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে বিতর্ক চলছে।

সাত মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ইসরায়েল সরকারকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে এবং ইউএনআরডব্লিউএর সুরক্ষা ও বিশেষাধিকার অক্ষত রাখা এবং সম্পূর্ণ, দ্রুত, নিরাপদ ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা এবং বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানিয়েছি।’ গাজা, পশ্চিম তীর, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ার লাখ লাখ ফিলিস্তিনির শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়তা দিয়ে আসছে ইউএনআরডব্লিউএ। তবে ইসরায়েলের অভিযোগ সংস্থাটির ১০ শতাংশের বেশি কর্মী সন্ত্রাসী সংগঠন-হামাসের সঙ্গে জড়িত। এদিকে, গত ৬ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি আক্রমণের নতুন কেন্দ্রবিন্দু উত্তর গাজা। উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া এলাকার অন্তত ছয়টি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করেছে ইসরায়েল। এতে কমপক্ষে ৪৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, নিহত ও আহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু, নারী ও বৃদ্ধ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এটিকে ‘ভয়াবহ গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এখনো অন্তত ৩৫ জন নিখোঁজ রয়েছে।