যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির ন্যাটো মিত্ররা ইউক্রেনকে দূরপাল্লার পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার গভীরে হামলা চালাতে সহায়তা করলে কীভাবে জবাব দেওয়া হবে, তা নিয়ে কাজ করছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল রবিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের সম্ভাব্য দূরপাল্লার হামলার জবাবে রাশিয়া কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিকল্প নিয়ে ভাবা হচ্ছে।
ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় বেসামরিকদের মৃত্যু হচ্ছে উল্লেখ করে শনিবার মস্কোর ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য মিত্রদের আহ্বান জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এরপর নিজের প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমাদের সতর্ক করলেন পুতিন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পুতিন বলেছিলেন, রুশ ভূখন্ডের অভ্যন্তরে হামলায় সহায়তার অর্থ পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া। কেননা পশ্চিমাদের সরবরাহকৃত সামরিক সহায়তা পরিচালনায় ন্যাটোর সামরিক অবকাঠামো এবং কর্মীরা অংশ নেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইউক্রেনকে রুশ ভূখন্ডে হামলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে নানা সময়ই ক্রেমলিনে হামলার সবুজ সংকেতের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কয়েকজন কর্মকর্তা। সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, আমি আশা করি, তারা আমাদের সতর্কবাণী শুনেছে। কারণ, অবশ্যই আমাদের নিজেদের জন্যও কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সম্প্রতি রাশিয়ার পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তন এনেছেন পুতিন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, পশ্চিমাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের হামলার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনে দুই বছরের বেশি সময় চলমান যুদ্ধটি শীতল যুদ্ধের পর পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় সংঘাত সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, রাশিয়ার নিক্ষেপ করা ৪১টি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে ইউক্রেন। রবিবার দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে ৮০টি ড্রোন হামলা চালায় মস্কো। ধ্বংসের পাশাপাশি ৩২টি ড্রোন আকাশে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানায় ইউক্রেনের বিমানবাহিনী। তবে এ হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন সামরিক ও স্থানীয় কর্মকর্তারা।