মুন্সীগঞ্জে কোটি টাকার চারা বিক্রি

শীত মৌসুমকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে সবজির বীজতলা প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষক। বীজতলা থেকে তিন-চার কোটি টাকার সবজি চারা বিক্রি হওয়ার আশা করছেন কৃষকরা। সবজির চারা উৎপাদনে প্রসিদ্ধ মুন্সীগঞ্জ সদরের রামপাল, পঞ্চসার ও বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন। গ্রামে গ্রামে বীজতলা প্রস্তুত করেছেন কৃষক। ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, টমেটো,  ব্রুকলি, কুমড়া, বেগুন প্রভৃতি সবজির চারা উৎপাদনে ব্যস্ত থাকছেন তারা। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষায় বীজতলা ঢেকে রাখছেন বিশেষভাবে তৈরি মাচায়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাচা দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন বীজতলা। পরদিন সকালে যখন রোদ উঠে মাচা সরিয়ে নেন। দুপুরে রোদের প্রখরতা বাড়লে মাচায় ঢেকে দিচ্ছেন। আবার বৃষ্টিতেও মাচাগুলো বীজতলায় ঢেকে দেন। দুই দিন পরপর পানি ওষুধ স্প্রে করছেন।

বীজতলায় কাজে ব্যস্ত কৃষকরা জানান, আগস্টের মাঝামাঝিতে বীজতলা প্রস্তুত শুরু করেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে চারা উৎপাদন। বীজ বোনার ২৫ দিনের ব্যবধানেই চারা বিক্রি করে ফেলেন। প্রত্যেক বীজতলা তিন থেকে চারবার পর্যন্ত বীজ উৎপাদন করা যায়। প্রতি মৌসুমে ২ থেকে আড়াই কোটি সবজি চারা উৎপাদন হয়। যা থেকে বিক্রি হয়ে থাকে তিন থেকে চার কোটি টাকা। সবজির প্রকারভেদে প্রতি হাজার চারা বিক্রি ১২শ থেকে ১৭শ টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা রনি দাস জানান, শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদন লাভজনক পেশা। চারা উৎপাদনে জৈবসার ও খৈল ব্যবহার হয়। এ কারণে এখানকার চারার গুণগত মান ভালো। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এখানকার সবজি চারা দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন।

সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের ভট্টচার্যেরবাগ গ্রামের শিহাব সিকদার ৪২ শতাংশ জমিতে বীজতলা করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। ১৫ দিনের ব্যবধানে চারা বেড়েছে দেড় গুণ। এক হাজার ফুলকপি চারা ১৪শ টাকা ও প্রতি হাজার টমেটো চারা বিক্রি হচ্ছে চার হাজার টাকায়। বিনিয়োগ করে অর্ধেক পরিমাণ লাভ হয়। একই ইউনিয়নের বণিক্যপাড়া গ্রামের কৃষক হারুন মিয়া ২৫ বছর ধরে বীজতলা করে আসছেন। এখানকার বীজতলার চারা উৎকৃষ্ট মানের। বীজতলা করে লোকসান হয়নি। একই ইউনিয়নের পঞ্চসার গ্রামের আমির হোসেন জানান,  আগস্টের মাঝামাঝিতে ৫০ শতাংশ জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা উৎপাদনে বীজতলা করেছেন। প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যে চারা উত্তোলন করে বিক্রিও করেছেন। একই বীজতলায় আরও তিনবার চারা করবেন। খরচ বাদে ৫ লাখ টাকার মতো লাভের আশা দেখছেন।

উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকরা বংশপরম্পরায় বীজতলা করে আসছেন বলে জানিয়েছেন কৃষক আমজাদ হোসেন। তিনি ৩৫ শতাংশ জমিতে ফুলকপি, ব্রুকলি ও বাঁধাকপি চারার বীজতলা করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ২ লাখ টাকা। বীজতলা থেকে উৎপাদিত চারা তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে তার আশা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত বলেন, ইতিমধ্যেই শীতকালীন সবজি আবাদ শুরু হয়ে গেছে।  প্রাথমিক পর্যায়ে চারা উৎপাদনে বীজতলা করেছেন কৃষকরা। উৎপাদিত চারা জেলার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে। এসব চারার গুণগতমান ভালো। যেসব কৃষক ভালো ফলন প্রত্যাশা করেন,  দেশের যেকোনো প্রান্তের কৃষক হোন না কেন তারা এ চারা নিয়ে আবাদ করতে পারেন।