সাফ শিরোপা এক জয় দূরে

অনুমিত বড় জয়ে নারী সাফের ফাইনালে পৌঁছে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় ভুটানকে কাল ৭-১ গোলে হারিয়ে আরেকবার শিরোপার হাতছানি পাচ্ছে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে জোড়া গোল করা তহুরা এই ম্যাচে পেয়েছেন হ্যাটট্রিকের দেখা। এছাড়া অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের পা থেকে আসে জোড়া গোল। বাকি দুই গোলের মালিক ঋতুপর্ণা চাকমা ও মাসুরা পারভীন।

সিনিয়র ও সেরাদের নিয়েই এই ম্যাচে একাদশ সাজান ব্রিটিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। ভারতের ম্যাচের একাদশে কেবল একটা পরিবর্তন। চোট পাওয়া শামসুন্নাহার জুনিয়রের জায়গায় খেলছেন সাগরিকা। তেকাঠীর নিচে বিশ্বস্ত রূপনা চাকমা ছিলেন সয়ংক্রিয় পছন্দ। রক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন অভিজ্ঞ মাসুরা পারভীন, সামসুন্নাহার জুনিয়র, শিউলি আযিমের সঙ্গে তরুণ আফিদা খন্দকার। মাঝমাঠের দায়িত্বে ছিলেন মনিকা চাকমা ও মারিয়া মান্দা। বাঁ-দিক দিয়ে আক্রমণের দায়িত্ব ছিল ঋতুপর্ণা চাকমার। আর গোলের দায়িত্বে সাবিনা, তহুরা ও সাগরিকা।

ম্যাচের সপ্তম মিনিটে অসাধারণ গোলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তহুরা দারুণ বডি ডজে মার্কারদের পেছনে ফেলে বল নিয়ে আক্রমণে উঠে বাঁ-দিকে ঋতুকে দেন। বল আয়ত্তে নিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে ভুটান কিপারকে পরাস্ত করেন ঋতু (১-০)। ১৫ মিনিটে তহুরা খাতুন গোলের খাতা খোলেন। শিউলি আযিমের ক্রস নামিয়ে চকিতে ঘুরে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভারতকে হারানোর নায়ক (২-০)। ১৮ মিনিটে খানিকটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের রক্ষণ। সতীর্থের কাছ থেকে থ্রু পেয়ে যান দেকি লাজম। বিপদ বুঝে রূপনা বের হয়ে এসে চেয়েছিলেন তার শট নেওয়ার কাজটা কঠিন করে তুলতে। তারপরও শট নিয়েছিলেন ভুটান ফরোয়ার্ড। তবে তা ফাঁকা পোস্ট রেখে বাইরে যায়।

২৫ মিনিটে তহুরার পাস ধরে সাবিনা বাঁ-দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দূরের পোস্টে শট নিয়েছিলেন। তবে তা সাইডবারে আঘাত হানে। পরের মিনিটে অবশ্য হতাশ হতে হয়নি বাংলাদেশ অধিনায়ককে। মনিকা চাকমার কাটব্যাক থেকে সাবিনার প্লেসিং জালে জড়ালে স্কোরলাইন ৩-০ হয়। ৩৫ মিনিটে মারিয়া মান্দার ক্রস পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে বাঁ পায়ের শটে ভুটান কিপারের ওপর দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তহুরা (৪-০)। দুই মিনিট পর একক প্রচেষ্টায় নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান সাবিনা। মাঝমাঠে দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে আগুয়ান কিপারকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল পোস্টে জমা করেন দেশের সর্বকালের সেরা গোলদাতা (৫-০)। ৪১ মিনিটে বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে শেরিং হাদেন ক্রস ফেলেন গোলমুখে (৫-১)।

বিরতি থেকে ফিরে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ নয়, বরং কিছুটা বুঝেশুনে খেলতে দেখা গেছে বাংলাদেশকে। ফলে অনেকটা সময় গোল পায়নি তারা। ৫৮ মিনিটে তহুরা হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। বাঁ-দিক থেকে সাবিনার পাস আলতো চিপ করে বক্সে ফেলেন মারিয়া। তহুরা বল পেয়ে প্লেসিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন (৬-১)। এরপর ৭২ মিনিটে সানিজদার কর্নারে মাসুরার হেডে ৭-১ হয় স্কোরলাইন। শেষ দিকে ফাইনালের কথা মাথায় রেখে বেশ কটি পরিবর্তন করেন বাটলার।

ম্যাচের আগের দিন ফুটবলারদের সাবেক কোচে প্রভাবিতের অভিযোগ করা পিটার বাটলার প্রশংসা করেছেন সাবিনাদের খেলার, ‘গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ৯০ মিনিট খেলোয়াড়রা চোট ছাড়া খেলা শেষ করেছে এবং নিজেদের দায়িত্বটা ঠিকঠাক পালন করেছে। এখন আমাদের একটা ভালো ফুটবল দলের মতো দেখাচ্ছে। তবে (শিরোপা জিততে) আমাদের আরও ভালো হতে হবে। কোনো চোট নেই, গোলও পাচ্ছি। তাই আমি আজ রাতটা উপভোগ করব। শেষে ফাইনাল নিয়ে ভাবব।’

ভারত-নেপাল দ্বিতীয় সেমিফাইনাল জয়ীর সঙ্গে ২৯ অক্টোবর ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ।