শনিবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটে চার বছরের জন্য সহসভাপতি ও সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নাসের শাহরিয়ার জাহেদী ও ইকবাল হোসেন। প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি সুদীপ্ত আনন্দের কাছে দুজনই জানিয়েছেন তাদের লক্ষ্যের কথা ২০২০ সালে দেখেছি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। এবারও একাই করতে হয়েছে। তারপরও মানুষ এবার আপনার ওপর আস্থা রেখেছে
ইকবাল হোসেন : আসলে গত চার বছর বাফুফের বাইরে থাকলেও ফুটবল থেকে কিন্তু আমি দূরে থাকিনি। প্রায় আড়াই-তিন বছর জাতীয় দলের ম্যানেজার ছিলাম। এছাড়া বিভিন্ন কমিটির হয়ে কাজ করেছি। চেষ্টা করেছি ব্যবসার বাইরের সময়টুকু ফুটবলকে দিতে। এই চার বছর কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এবার একটা প্লাস পয়েন্ট ছিল অনেক সাবেক খেলোয়াড় এবার কাউন্সিলর হয়েছিলেন। আমাদের কয়েকজন সাবেক খেলোয়াড় একটা টিম হয়ে নির্বাচনে কাজ করেছি। গাউস, হিলটন, আমি একসঙ্গে মুভ করেছি। সতীর্থদের সমর্থন পেয়েছি। কাউন্সিলররাও ভরসা রেখেছেন বলেই সেরা হতে পেরেছি। তাই সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।
এক নম্বর নির্বাহী সদস্য হওয়া মানে দায়িত্ব তো অনেক বেড়ে গেল?
ইকবাল : আগে দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর কাজী সালাউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করেছি। তিনি একটা চিন্তাধারায় চেষ্টা করেছেন ফুটবলকে এগিয়ে নিতে। এখন যিনি সভাপতি হয়েছেন, তাবিথ ভাই, ওনার সঙ্গেও দীর্ঘদিন সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। মজার ব্যাপার হলো, টানা দুই মেয়াদে আমরা দুজনই বাফুফেতে ছিলাম। আবার গত মেয়াদে তিনিও ছিলেন না, আমিও ছিলাম না। দুজনই আবার প্রতিবারই স্বতন্ত্র নির্বাচন করে পাস করেছি। তাই ওনার সঙ্গে আমার অন্যরকম একটা বোঝাপড়া আছে। এখন উনি আমাকে যে দায়িত্ব দেবেন, চেষ্টা করব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার। চেষ্টা করব ফুটবলকে আরও একটু বেশি সময় দিয়ে সত্যিকারে ফুটবলের উন্নতি করার।
সাবেক ফুটবলারদের একটা দুর্নাম আছে যে তাদের হাতেই ফুটবল সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ। এই দুর্নাম কি এবার আপনার মাধ্যমে ঘুচবে?
ইকবাল : আসলে সুনাম-দুর্নাম নির্ভর করে ফুটবলের রেজাল্ট ও পারফরম্যান্সের ওপর। ফুটবল ভালো করে কমিটির সুনাম হয়। খারাপ করলে কমিটির ভেতরের ফুটবলারদের বেশি দায় নিতে হয়, সমালোচনাও হয় বেশি। এবার কিন্তু একেবারে নতুন একটা নেতৃত্ব এসেছে। সাবেক ফুটবলারদের পাশাপাশি অনেক নতুন সংগঠক এসেছেন। সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, চার সহ-সভাপতি এসেছেন। তাদের বেশিরভাগই নতুন। তাই নতুনরা নিশ্চয় চাইবেন না দুর্নামের ভাগিদার হতে। যদি সাবেক ফুটবলারদের কোনো দুর্নাম হয়েই থাকে, আমরা সাবেকরা মিলে আন্তরিকভাবে কাজ করে সেই দুর্নাম ঘোচানোর চেষ্টা করব।
ভেতর হোক কিংবা বাইরে এক যুগে বাফুফের কর্মকান্ড খুব কাছ থেকে দেখেছেন। দীর্ঘ এই সময়ে থেকে ফুটবলের পিছিয়ে থাকার কারণ কী মনে হয়। উত্তরণের উপায়ও বা কী?
ইকবাল : আমরা সবাই তৃণমূলে ফুটবল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করি। এটা ঠিক আছে। তৃণমূলে, গ্রাম-গঞ্জে খেলা তো হতেই হবে। তবে তারা
তৃণমূল কিংবা জেলা-উপজেলা থেকে উঠে এসে যদি খেলার একটা সঠিক জায়গা না পান, তাহলে তো হবে না। তাই দুদিকেই আমাদের সমান দৃষ্টি দিতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই জেলার লিগসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টগুলো নিয়মিত হোক। আমি নিজেও অতীতে শের-ই-বাংলা কাপ, সোহরাওয়ার্দী কাপগুলোতে খেলেছি। আর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য থাকা উচিত ১০ বছরের একটা পরিকল্পনা নিয়ে একটা শক্তিশালী জাতীয় দল গড়ে তোলার চেষ্টা করা।