রিয়ালের ঘর তছনছ বার্সেলোনার

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচের তখন ৩০ মিনিট। কিলিয়ান এমবাপ্পে বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মাতলেন। ধারাভাষ্যকার বলে উঠল এমবাপ্পের প্রথম এল ক্লাসিকো গোল। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। ভিএআর-এ বাতিল হলো গোল। বিল্ডআপের সময় এমবাপ্পে নিজেই ছিলেন অফসাইডে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল সব চিত্র। রবার্ট লেভানডফস্কি তিন মিনিটের মধ্যে করলেন জোড়া গোল। ইয়ামাল, রাফিনহাও গোল পেলেন। বার্নাব্যুতে বার্সেলোনা ৪-০ গোলে হারাল রিয়াল মাদ্রিদকে। তাতে লা লিগায় পয়েন্ট টেবিলেও নিজেদের শীর্ষ স্থান মজবুত করল হান্সি ফ্লিকের দল।

রিয়াল মাদ্রিদের সামনে সুযোগ ছিল ম্যাচটি জিতে পয়েন্ট টেবিলের বার্সাকে ছোঁয়ার। জয় পেলে লা লিগায় টানা ৪৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বার্সার রেকর্ডেও ভাগ বসাতো লস ব্লাঙ্কোসরা। হেরে যাওয়া রেকর্ড থামল ৪২ ম্যাচেই। অন্যদিকে বার্সেলোনা টানা দুই ম্যাচে চার গোল দিল প্রতিপক্ষকে। এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্নকে ৪-১ এ হারিয়েছিল বার্সা।

ম্যাচের ৫৪ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে মার্ক কাসাদোর থ্রু পাস ধরে এগিয়ে বক্সের মাথা থেকে গোল করেন লেভানডফস্কি। দুই মিনিট পর মাঠের বাঁ-প্রান্ত থেকে আলেহান্দ্রো বালদের ক্রস থেকে এবারের লিগে ১৪তম গোল করেন পোলিশ স্ট্রাইকার। ৬৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক পেতে পারতেন তিনি। তবে তার শট রিয়াল গোলকিপার আন্দ্রে লুনিনকে ফাঁকি দিলেও পোস্টে লাগে।

রিয়াল মাদ্রিদ যে ম্যাচে আক্রমণ করেনি তা নয়। তবে বার্সেলোনার অফসাইড ট্র্যাপ ভাঙতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির দল। ম্যাচে ১২ বার অফসাইডের ফাঁদে ফেলেন তাদের বার্সার ইনিগো মার্তিনেজ, পাউ পুবারসি, আলেহান্দ্রো বালদে, জুলস কুন্দে। এমবাপ্পে একাই আটবার অফসাইডের ফাঁদে পড়েন। আবার ভিনিসিয়ুস, এমবাপ্পেরা গোলের বেশ কিছু সুযোগও নষ্ট করেছেন। বার্সেলোনা গোলকিপার ইনাকি পেনা বেশ কয়েকটি ভালো সেভ দেন।

৭৭ মিনিটে রাফিনহার অ্যাসিস্ট থেকে ব্যবধান বাড়ান লামিন ইয়ামাল। তাতে এল ক্লাসিকোর ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান এই তরুণ। ১৭ বছর ১০৬ দিনে গোল করে এল ক্লাসিকোর তরুণ গোলদাতা ইয়ামাল। এর আগে এল ক্লাসিকোতে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা ছিলেন বার্সার সাবেক ফরোয়ার্ড আলফোনসো নাভারো (১৭ বছর ৩৫৬ দিন)। গোলটি করার পর বার্নাব্যুতে রোনালদোর বিখ্যাত ‘কালমা’ উদযাপন (এই উদযাপনের অর্থ হচ্ছে শান্ত থাকো, আমি আছি) ফিরিয়ে এনেছেন ইয়ামাল। যে উদযাপনে এক হাত দিয়ে শান্ত থাকার ইশারা করে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে দেখা যায় রোনালদোকে। ৮৪ মিনিটে রিয়ালের জালে বল পাঠিয়ে গোলের হালি পূরণ করেন রাফিনহা। মৌসুমে লিগে এটি রাফিনহার ষষ্ঠ গোল।

ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ খেলে ৪-৪-২ ফরমেশনে। তবে রিয়াল কোচ নিজের কৌশলে ভুল দেখছেন না। ‘ওরা ভালো খেলেছে। ওদের প্রথম গোলের আগ পর্যন্ত সমান তালেই লড়াই হয়েছে। প্রথমার্ধে আমাদের খেলায় তাড়না ছিল, কিন্তু নিশানা ঠিক ছিল না। এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আমাদের ছিল, কিন্তু আমরা পারিনি। পরে ওরা দুই গোল করার পর খেলাটা বদলে যায়। কিছু সমস্যা আছে, যা আমাদের সমাধান করতে হবে। এটা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা, কৌশলগত সমস্যা নয়।’

ম্যাচের পর আলোচনায় ফ্লিকের ‘হাই লাইন’ ডিফেন্স। ম্যাচের পর ডিফেন্সে থাকাদেরই কৃতিত্ব দিলেন কাতালান কোচ। ফ্লিক বলেন, ‘ডিফেন্সের প্রচেষ্টা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাই লাইন নিয়ে কীভাবে খেলব এবং কীভাবে বল নিয়ে চাপ গড়ে তুলব, সেটার অনেক অনুশীলন করেছি আমরা। রিয়ালের বিপক্ষে কোনো জায়গায় ছাড় না দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অবিশ্বাস্য সব ফুটবলার তাদের। বল পায়ে এবং বল ছাড়া আমরা ভালোভাবে চাপ তৈরি করেছি। বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল আমাদের কাছে, এজন্যই খেলাটা বদলে গেছে।’ ১১ ম্যাচে ৩০ পয়েন্টে শীর্ষে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচ থেকে ২৪ পয়েন্টে দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ।