সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে একদিনের ম্যাচ খেলেছিল পাকিস্তান। টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হয়ে নেতৃত্ব ছাড়েন বাবর আজম। কিন্তু গত এক বছরে তারা আর কোনো ওয়ানডে খেলেনি। তাই এই সংস্করণে অধিনায়কত্ব নিয়েও আর কোনো আলোচনা হয়নি। তবে দুয়ারে যখন কড়া নাড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ তখনই অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হলো মোহাম্মদ রিজওয়ানের নাম।
অধিনায়কত্ব পেয়ে স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন। ক্রিকেটে এমন উদাহরণ অনেক আছে। তবে রিজওয়ান তেমন উদাহরণ হতে চান না। পাকিস্তানের নতুন ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েই নেতৃত্বের ব্যাপারে নিজের দর্শনের কথা জানিয়ে দিয়েছেন রিজওয়ান।
৩২ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান বলেছেন, রাজার মতো আচরণ না করে ১৫ জনের (স্কোয়াডের) পরিচর্যা করতে চান।
১ অক্টোবর পাকিস্তানের সাদা বলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেন বাবর আজম। এর পর থেকেই পদটি শূন্য ছিল। অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ে সফর সামনে রেখে গতকাল লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক হিসেবে রিজওয়ানের নাম ঘোষণা করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। এই দুই সংস্করণে সহ–অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান আগা সালমানকে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে রিজওয়ান বলেন, ‘পাকিস্তানের সাদা বলের অধিনায়ক হতে পারা আমার জন্য বিশাল সম্মানের। এই ভূমিকায় নিজের সেরাটা দেওয়ার ব্যাপারে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচক, কোচ এবং আমার অসীম প্রতিভাবান সতীর্থদের সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে আছি। ভক্ত ও সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ এবং অতিক্রম করাই আমাদের লক্ষ্য।’
অধিনায়কের ভূমিকায় সতীর্থদের সঙ্গে তার আচরণ ও বোঝাপড়া কেমন হবে—এমন প্রশ্নে রিজওয়ানের উত্তরটা ছিল দার্শনিকসুলভ, ‘আমি যদি অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে রাজা ভাবতে শুরু করি, তাহলে সবকিছু ভেঙে পড়বে; বরং একজন নেতা হিসেবে আমি এখানে দলের ১৫ জনের সেবা করতে এসেছি। এভাবেই সবকিছু হওয়া উচিত। প্রত্যেকের কাছ থেকেই আমি সমর্থন পেয়েছি। সবাই আমাকে একটি কথাই বলেছে—লড়াই, লড়াই এবং লড়াই। এখনো অনেক বার্তা পাচ্ছি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পুরো জাতিকে দেখাতে চাইব যে আমাদের মধ্যে লড়াকু মানসিকতার কমতি নেই।’
মাঠের বাইরে কে কী বলছেন, সেদিকে কান না দিয়ে নিজের দায়িত্বটা ঠিকঠাক পালন করতে চান রিজওয়ান, ‘দেখুন, নানা জায়গা থেকে নানা রকম গুজব ছড়ানো হয়েছে। সেগুলো আমার কানে এসেছে। কিন্তু আমি যদি কোনো গ্রুপের অংশ হই, তাহলে সেটা পুরো পাকিস্তান দল। এখন আমি অধিনায়ক হলেও আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই দলের সবাই নিজেদের অধিনায়ক ভাবতে পারে। আমার দায়িত্ব হলো কাজগুলো করা, উপস্থাপনায় অংশ নেওয়া এবং পরামর্শসভা পরিচালনা করা।’