রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই হামলায় আহত ও আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২ শিক্ষকসহ ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত ও শিক্ষকসহ ৮১ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (২৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বেলা আড়াইটায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক, সাত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৭২ শিক্ষার্থীর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ হতে আদালতে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, গত জুলাইয়ের পর থেকে শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা পলাতক রয়েছেন তাদের ছুটি বাতিল করা হবে এবং সাময়িক বরখাস্ত করা হবে।
ওই দুই শিক্ষক হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মন্ডল। আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি ও পোমেল বড়ুয়া, সম্পাদক শামীম মাহফুজসহ বাকি সবাইও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান উপাচার্য। তবে কর্মকর্তা কর্মচারীর নাম এখনও প্রকাশ করেনি।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কোনো দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হলে তাকে সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসারে বরখাস্ত করার কথাও বলেন উপাচার্য।
এদিকে শিক্ষার্থীদের বা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে উপাচার্য বলেন, ‘কোনো লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি আমার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে না।’
কবে নাগাদ এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে এ ধরণের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, `ওয়েট এন্ড সি। আমার কাজ তো বেশি দেরি হবে না। একটু কাজের সুযোগ দেই।'
প্রেস ব্রিফিং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিয়োগ জালিয়াতির কথা উঠে আসছে। সেই ৩ শিক্ষকের জালিয়াতির বিষয়েও সিন্ডিকেট সভায় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
হামলার সাথে জড়িতদের মামলার বিষয়ে শুনে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা দেশ রSপান্তরকে বলেন, `যারা যারা হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা রুজু করে আইনিভাবে বিচারের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। দেরি হলেই বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে যায়। আমরা চাই অতিসত্বর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসুক।'
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, `যারা ছাত্ররাজনীতির নামে বাংলাদেশে অপরাজনীতির সূত্রপাত ঘটিয়েছেন, তাদের উচিত এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক সতর্ক হয়ে যাওয়া। সবমিলিয়ে আমরা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আজকের এই সিদ্ধান্তে সত্যিই উচ্ছ্বসিত।'