প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত

দাবি পূরণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিছুদিন সময় চাওয়ায় পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি স্থগিত করেছে বিসিএস গাইনি (জেনারেল ও সাবস্পেশিয়ালিটি) ফোরাম। ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কিছুদিন সময়ে দিতে চান। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী দাবি পূরণ না হলে দেশজুড়ে কর্মবিরতে যাবেন সরকারি হাসপাতালে কর্মরত প্রসূতি ও স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞ বা গাইনি চিকিৎসকরা। 

সোমবার (২৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফোরামের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

পদ না থাকলেও অতিরিক্ত পদে ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতি, শূন্য পদ সাপেক্ষে পদায়ন ছাড়াও স্বকর্মস্থলে পদোন্নতি (ইনসিটু প্রমোশন) দেওয়ার দাবিতে সরকারকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল বিসিএস গাইনি (জেনারেল ও সাবস্পেশিয়ালিটি) ফোরাম। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সারা দেশের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগবিশেষজ্ঞ বা গাইনি চিকিৎসকেরা প্রথম পর্যায়ে ২৮-৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করার ঘোষণা দেন। তারপরও দাবি পূরণ না হলে ২ নভেম্বর থেকে পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান তারা।

গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই কর্মসূচির ডাক দেন চিকিৎসকরা। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে স্মারকলিপিও দেন তারা। পরে দাবি পূরণে উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ফোরামের সদস্যরা জানান, দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন কর্মদিবসের মধ্যে চিকিৎসকদের দাবির যৌক্তিকতা যাচাই ও সম্ভাব্য সমাধান জানাতে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে। সে অনুযায়ী গত কয়েকদিন কয়েক দফায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ফোরামের সদস্যদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে। সর্বশেষ গতকালের বৈঠকে স্বাস্থ্য সচিব ফোরামের সদস্যদের কাছে দাবি পূরণের সম্ভাব্য সমাধানে কিছুদিন সময় চান। সে কারণেই পূর্বঘোষিত কর্মবিরতির কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ফোরাম। 

এ ব্যাপারে ফোরামের সদস্য ডা. মির্জা মো. আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আমাদের দাবি নিয়ে কয়েকদিন ধরেই আমাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। পদোন্নতির জট নিরসন ও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির উপায় বের করতে তারা কিছুদিন সময় চেয়েছেন। আমরা সময় দিয়েছি। এর মধ্যে উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবো। দাবি পূরণ না হলে আমরা কর্মবিরতিতে যাবো।