সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার  

রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় ফারাহ দীবা (৬২) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বাড়ির কেয়ারটেকার ও গাড়ি চালককে সন্দেহ করছে পুলিশ। বাসায় রক্ষিত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করায় বাঁধা দেওয়াতে তাকে খুন করা হতে পারে বলেও সন্দেহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

রবিবার (২৭ অক্টোবর) মিরপুর ডিওএইচএসের ১০ নম্বর সড়কের বাসা থেকে ফারাহ দীবার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার স্বামী কাজী আবদুল মতিন বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার। এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্বামী নিয়ে তিনি ওই বাসায় বসবাস করতেন। ঘটনার সময়ে বাসায় তিনি ছাড়া অন্য সদস্যরা ছিলেন না বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, বাসা থেকে নগত অন্তত ১৫ লাখ টাকা ও ১০ ভরির মতো স্বর্ণালঙ্কার লুট হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব লুট করতে গিয়ে বাঁধা পেয়ে দুর্বৃত্তরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটনায়। ঘটনার পর বাড়ির কেয়ারটেকার ও এক গাড়িচালক পলাতক রয়েছে। এখন পর্যন্ত ওই দুইজনকেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ মাকসেদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরিচিত কেউ জড়িত বলে তাদের সন্দেহ। সেক্ষেত্রে বাড়ির কেয়ারটেকার ও একজন গাড়িচালককে ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ডিসি আরও বলেন, বাসা থেকে টাকা ও গহনা খোয়া গেছে। তবে এটি কোনো পেশাদার ডাকাতদলের কাজ নয় বলে মনে হচ্ছে। যারা জানতো যে ওই সময়টাতে বাসায় বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্ত্রী একাই থাকেন, তাদের কেউ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কর লুটের জন্য গিয়ে থাকতে পারে। 

পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার পহন চাকমা বলেন, তারা ধারণা করছেন, রোববার সকালে বাসার তত্ত্বাবধায়ক ও গাড়িচালক ওই নারীকে হত্যার পর মালামাল লুট করে পালিয়েছে। ঘটনার সময় বাসাতে ওই নারী ছাড়া কেউ ছিলেন না। ওই নারীর স্বামী, ছেলে ও মেয়ে চাকরিজীবী। তারা বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে হত্যার ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। 

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ওই নারীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা না গেলেও তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিল। প্রাথমিক আলামতে নিশ্চিত যে এটি হত্যাকাণ্ড। এখন জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এরইমধ্যে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।