নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় দুটি হত্যা মামলায় দেশের অন্যতম রপ্তানিনির্ভর গার্মেন্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান ফকির গ্রুপের তিন শীর্ষ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- ফকির নিটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির আখতারুজ্জামান সিআইপি, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফকির মাশরিকুজ্জামান এবং ফকির ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির কামরুজ্জমান নাহিদ। তবে, মামলার বাদী অভিযুক্তদের চেনেন না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। মূলত পূর্ব আক্রোশ ও ব্যক্তিগত ফায়দা লুটতেই এ হত্যা মামলা বলে ধারণা অভিযুক্তদের। গত দুমাসে এমন ঢালাও হত্যা মামলার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন বিশ্লেষকেরা।
তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা জানান, গার্মেন্ট সেক্টরের ব্যবসায়ীদের নামে এসব মামলার বেশিরভাগই হচ্ছে স্থানীয়দের জুট ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ ও নতুন করে দখলকে কেন্দ্র করে। সুযোগসন্ধানীরা পরিস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন। আড়াইহাজার থানায় দায়ের হওয়া মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মামলা দুটির ভাষা ও বর্ণনা ও প্রায় একই রকম। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্থানীয় একজন বিএনপি নেতার ইন্ধনে ফকির গ্রুপের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ মামলাটি করা হয়েছে।
গত ১৯ জুলাই স্থানীয় বিএনপির কর্মী শফিকুল ইসলামের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার ২১ আগস্ট আড়াইহাজার থানায় এ মামলাটি করেন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় অভিযুক্ত ফকির গ্রুপের তিনজনকে বাদী তাসলিমা চেনেন কিনা তা তিনি বলতে পারেন নি। ফকির গ্রুপের তিন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দ্বিতীয় মামলাটি দুপতারা ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি বাবুল মিয়া হত্যার ঘটনায়। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন গত ২২ আগস্ট মামলাটি করেন। এই মামলায় ফকির গ্রুপের এই তিন কর্মকর্তাকে ১০ থেকে ১৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চেনেন কিনা এমন প্রশ্নে বাদী নুরুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার চেনার দরকার নেই।’
ফকির গ্রুপের ব্যবস্থাপক সুমন কান্তি সিং জানান, স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের আক্রোশের শিকার হয়েছেন তিন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। ফকির গ্রুপ থেকে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে তারা মামলাটি করেছেন। আর ফকির গ্রুপের কর্মকর্তাদের মামলার পেছনে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ইন্ধন রয়েছে। আর এ মামলার কারণে তিন শীর্ষ কর্মকর্তা ভোগান্তি ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন। জানতে চাইলে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এহসান উল্লাহ বলেন, কেউ যদি নির্দোষ হয়ে থাকেন তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে।