পাবনা সাঁথিয়া উপজেলার মাধপুর বাজারে আওয়ামীলীগ কার্যালয় সংলগ্ন খাস জমিতে নির্মিত ১৭টি স্থায়ী ও ১০টি ভাসমান দোকান হতে জোরপূর্বক ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কতিপয় নামধারী নেতার বিরুদ্ধে। বাজারটির আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের দখল নিয়েছে মাদকসেবীরা। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি অভিযুক্তরা বিএনপির নেতাকর্মী নয়। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এরা সবাই খোলস পাল্টিয়ে বিএনপির নামে অপকর্ম করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক এবং সাঁথিয়া-পাবনা মহাসড়কের পাশে মাধপুর বাস স্ট্যান্ডের উত্তরে রয়েছে ১৬ শতাংশ খাস জমি। যার জে এল নং ৮০, দাগ নং ৬৪৫, খতিয়ান নং ০১ (খাস)। জায়গাটি সাঁথিয়া উপজেলা প্রশাসন দখল মুক্ত করলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আওয়ামীলীগ নেতা আরশেদ আলী ভান্ডারী ওই স্থানে আওয়ামী লীগ এর অফিসের নামে একটি ঘর নির্মাণ করেন। এ সুযোগে অন্যরা তাকে ম্যানেজ করে পূর্ব-পশ্চিমে ১৭টি স্থায়ী ও অফিসের সামনে আরও প্রায় ১০-১২টি অস্থায়ী ভাসমান দোকান বসান। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আরশেদ আলী ভান্ডারী ওই সব দোকান থেকে প্রতিমাসে নিজেই ভাড়া আদায় করতেন।
গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রাতেই আওয়ামী লীগ অফিসটি পরিণত হয় বিএনপি অফিসে, এমনটা দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় কথিত ৬ জন বিএনপির নেতার হাতে। বর্তমানে ওই নেতারা স্থায়ী প্রতি দোকান থেকে ১৫শ’ হতে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক ভাড়া আদায় করছেন।
স্থানীয়রা জানান, কথিত বিএনপির নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মৃত রায়হানের ছেলে আব্দুল কুদ্দুস খাঁ ও ইদ্রিস আলী খাঁ, মৃত লোকমান হোসেনের ছেলে বাচ্চু মেম্বর, শামসুল খান এর ছেলে শহীদুল্লাহ, মৃত নূরুল ইসলাম এর ছেলে মতিউর রহমান রঞ্জু, আনিসুর রহমান রবু এর ছেলে সুইট। এদের সবার বাড়িই মাধপুর গ্রামে। এখানে কেউ কেউ ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিপূর্বক দোকান প্রতি ২-৩ লাখ টাকা সিকিউরিটি দিয়ে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছে। কেউ কেউ মাসিক ঘর ভাড়ার পাকা রশিদ-ছাঁপিয়ে ভাড়া আদায় করে চলছে। প্রশাসনের নাকের কার্যক্রম চললেও এবং প্রশাসন না জানার ভান করে রয়েছে।
মাধপুর বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জনাব আলী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আরশেদ আলী ভান্ডারী সব ভাড়া তুলতেন এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন। এখন নিয়ন্ত্রণ করছে কথিত বিএনপির ৬ জন নেতা। বিষয়টি সকলে জানলেও সম্মুখে বলতে কেউ সাহস পায় না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সোলায়মান হোসেন সলিম বলেন, ওরা বিএনপির কেউ নয় আর জমিটা সম্পূর্ণ সরকারি খাস জমি।
মতিউর রহমান রঞ্জু সাথে কথা হলে তিনি দাবি করেন এটা তাদের সম্পত্তি এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তাই তারা ভোগ দখল করে দোকানের ভাড়া তুলছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাঁথিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাতুল হক বলেন, একমাস পূর্বে অভিযোগ পেয়েছিলাম এবং উক্ত বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।