ইংলিশদের মতো খেলে সাবিনারা, তাই সতর্ক নেপাল

নেপালের সঙ্গে আগামীকালের সাফ ফাইনালের আগে বাংলাদেশ নারী দলের কোচ বাটলার দাবী করছেন, 'শিহরণ জাগানিয়া ফাইনাল হবে।' 

'আমরা অনেকটা পথ এসেছি, আরো এগিয়ে যেতে চাই। নেপালের প্রতি সম্মান রেখেই নামবো আমরা। যখন আপনি ফাইনালে খেলবেন, তখন সব কিছু সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, কখনো কখনো উপলক্ষ্য আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আমি জানি, আগামীকালের (আজকের) ম্যাচে অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তবে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে সঠিক মানসিকতা, মনোভাব নিয়ে আমরা খেলতে পারি। দলে ভীষণ চাঙ্গা আছে। প্রত্যেকেই নিজেদের সেরাটি দিতে প্রস্তুত। যেই ১১জনই খেলবে, আমি বিশ্বাস করি তারা তাদের সর্বোচ্চটা দিবে' কাঠমান্ডুতে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন তিনি। 

সাবিনা এই মাঠেই দুই বছর আগে শূণ্য তুলে ধরেছিলেন শিরোপা। হয়েছিলেন সেরা ফুটবলারও। এবার গোলের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও নানা ঘটনায় বয়ে যাওয়া ঝড় সামাল দিয়ে মেয়েদের আগলে রাখছেন দারুণ দৃঢ়তায়। ফাইনালের আগেও  তার কথায় ঝড়েছে আত্মবিশ্বাস, 'দল নিয়ে ভীষণ আত্মবিশ্বাসী। একটা দারুণ ফাইনাল দেখতে পারবেন আশা করছি। মেয়েরা যেসব বিতর্কের মধ্য দিয়ে গেছে, সেসব কিছু অতিক্রম করে যেভাবে ফুটবল খেলেছে সেটা অবিশ্বাস্য। প্রশংসা করা উচিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা এখানে যেরকম ফুটবল খেলছি। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে। সবাই বলেছে, আমাদের খেলা দেখে নাকী গায়ের রোম দাঁড়িয়ে গেছে। এরকম শুনলে তো সাহস আরও বেড়ে যায়। আমি মনে করি, শিরোপা জেতার জন্যই খেলব।'

দশরথে স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলার একটা বাড়তি চাপ থাকে। সেটা গ্যালারি ভর্তি সমর্থকদের। এরকম চাপ জয় করেই গতবার শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সাবিনা তাই মোটেই চিন্তিত নন। বরং তার মনে হয় সমর্থকদের চাপটা থাকবে নেপালের ওপর, 'আমাদের অনেকেরই এই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আমার কাছে মনে হয়, স্বাগতিক দলই বেশি চাপে থাকবে। কারণ তাদের আছে প্রত্যাশা পূরণের চাপ। তাছাড়া তারা এখনও শিরোপা জিতেনি। এটাই কিন্তু আমাদের বাড়তি সুবিধা।’

নেপালের কোচ রাজেন্দ্র বাংলাদেশকে সমীহের জায়গায় রাখার কথাই বারবার বলেছেন, 'গতবারের ফাইনালে আমাদের কিছু ট্যাকটিক্যাল ভুল হয়েছিল বলে হেরেছিলাম। আশা করি এবার সেই ভুলগুলো হবে না। অতীত অতীই। তবে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছি আমরা। ইংলিশ কোচের অধীনে বাংলাদেশ শক্তিশালী দল, তাদের খেলার স্টাইল ইংলিশদের মতো। তাই এটা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে আমাদের। ঘরের মাঠে খেলা বলে যদিও সমর্থকদের পাশে পাওয়ার সুবিধা আমাদের পক্ষে থাকবে, কিন্তু টেকনিক্যালি এবং ট্যাকটিক্যালি এগিয়ে থাকা বাংলাদেশকে নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে আমাদের।'