রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রহমাতুন্নেসা হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইসমাত আরার বিরুদ্ধে আসন বণ্টনে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ওই হলে আবাসিকতার আবেদনকারী এক শিক্ষার্থী। তবে হল প্রাধ্যক্ষ বলছেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে আসন বণ্টন করেছেন। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর দেওয়া সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
অভিযোগকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম তাহমিদা নাসরিন কনক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাহমিদা কনক বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর হলে আবাসিকতার জন্য আবেদন আহ্বান করা হলে তিনি বিধি মেনে আবেদন করেন ও সাক্ষাৎকার দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আসন বরাদ্দের নীতিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা ও একাডেমিক ফলাফলসহ যেকোনো মানদণ্ডেই নিশ্চিতভাবেই আসন পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাননি। উল্টো হল প্রাধ্যক্ষের মন্তব্য ওই শিক্ষার্থীকে অপমানিত করেছে।
হলের আসন বণ্টন পদ্ধতি ও তার প্রতি হওয়া বৈষম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, নীতিমালার অনুযায়ী মেধা বিবেচনায় তার নম্বর হয় ৫০ ও জেষ্ঠ্যতায় ৩৯। এ ছাড়া সহ-শিক্ষা কাজের প্রমাণ হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সনদ আবেদনের সঙ্গে জমা দেন। নীতিমালা অনুসারে এক্ষেত্রে ৩ নম্বর পাবার কথা। অর্থাৎ তার সর্বমোট স্কোর হয় ৯২। যা প্রকাশিত ফলাফল বিবেচনা করলে সর্বোচ্চ স্কোর হবার কথা। তার অভিযোগ, হলে ৮৪ নম্বর পেয়ে অন্যান্য বিভাগের জুনিয়র শিক্ষার্থীরা আসন পেলেও তাকে মেরিট লিস্টে দেখানো হয়নি।
হল প্রাধ্যক্ষের অসহযোগিতামূলক আচরণ তুলে ধরে কনক বলেন, এ বিষয়ে হলে কথা বলতে গতকাল মঙ্গলবার ১০ টায় হলে গিয়ে তিন ঘণ্টা অবস্থান করেও প্রাধ্যক্ষের দেখা পাননি তিনি। হলের অফিসে প্রাধ্যক্ষের যোগাযোগ নম্বর চাইলেও দেয়নি। পরে বিকেল ৫টায় তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়। আসন বণ্টনে কম নম্বর নিয়ে জুনিয়র শিক্ষার্থীরা আসন পেলেও তিনি কেন পাননি জানতে চাইলে কোনো উত্তরের পরিবর্তে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হল প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘তুমি কি আগের প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছ?’
এর আগে আবাসিকতার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বে আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে হলে আসনের জন্য সাদা কাগজে আবেদনপত্র দিতে গেলে তিনি ভুক্তভোগীর আবেদনপত্র ফিরিয়ে দেন এবং বলেন, ‘তোমাকে দেখে তো হতদরিদ্র মনে হয় না। তোমার বাবা এতদিন তোমাকে বাইরে রাখতে পেরেছে, আর কিছুদিন পারবে। তুমি একটু কষ্ট করে বাইরেই থাকো। আগে ৫ টা জামা কিনলে এখন ২ টা কিনবা।’ এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করা না হলে এবং স্বচ্ছতা প্রমাণিত না হলে সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রহমাতুন্নেসা হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইসমাত আরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে তিনি আসন বণ্টন করেছেন। ওই শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ দিয়েছেন এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। এগুলো সব তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে।
আর্থিক অবস্থা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাক্ষাৎকারের সময় শিক্ষার্থীদের অনেককেই এ কথাগুলো বলে তাদের অবস্থা জানার চেষ্টা করা হয়েছে। হয়তো তাকেও বলেছিলাম। শিক্ষার্থীদের অপমানিত করার উদ্দেশে কিছু বলা হয়নি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন (প্রশাসন) বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবসিক হলে মেধার ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হয়েছে। ফলাফলে কিছু ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। তবে সেগুলো সমাধান করা যাবে। ওই ছাত্রী আমাদের কাছে এসেছিল। আমরা বিষয়টি পুনরায় দেখবো। যারা এ সিস্টেমের বিরুদ্ধে কথা বলছেন তারা ভালো কাজের বিরোধিতা করছেন। আমরা সিটবাণিজ্যর রীতিতে আর ফিরে যেতে চাই না।’