গত কিছুদিন ধরেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের অংশ নেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো মন্তব্য করেনি পিয়ংইয়ং বা মস্কো কেউই। সেনা পাঠানোর বিতর্কের মধ্যেই এবার রাশিয়া সফরে গিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন-হুই। গতকাল মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ এই তথ্য জানিয়েছে।
কেসিএনএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া সফরের উদ্দেশে একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে গতকাল সোমবার পিয়ংইয়ং ছেড়েছেন উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কো ও পিয়ংইয়ং পারস্পরিক সহায়তা জোরদার করছে, পশ্চিমা দেশগুলোর এমন উদ্বেগের মধ্যেই রাশিয়া সফরে গেলেন চোয়ে সন-হুই। তবে তার সফরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি কেসিএনএ।
সন-হুই এমন সময় রাশিয়া সফরে গেলেন, যখন উত্তর কোরিয়ার সেনাদের রাশিয়ার কুরস্ক সীমান্ত অঞ্চলে মোতায়েন ও যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টি প্রথমবারের মতো যৌথভাবে নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো। গত সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, কয়েক সপ্তাহের গোয়েন্দা রিপোর্টের পর এই মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ন্যাটো প্রধান এই মোতায়েনকে উল্লেখযোগ্য উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের বিপজ্জনক সম্প্রসারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে গভীর সামরিক সম্পর্ক ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে অন্তত ১ হাজার ৫০০ সেনা ইতিমধ্যে রাশিয়ায় পৌঁছেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ন্যাটো প্রধান বলেন, যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েক মিলিয়ন রাউন্ড গোলাবারুদ রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। এর প্রতিদানে পুতিন উত্তর কোরিয়াকে সামরিক প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন বলেছে, উত্তর কোরিয়া প্রশিক্ষণের জন্য রাশিয়ায় ১০ হাজার সেনা পাঠিয়েছে।