ইতিহাস গড়লেন রদ্রি

প্রতি বছর ব্যালন ডি’অর-এর আগে গণমাধ্যমগুলো নিজেদের মতো করে বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে এগিয়ে রাখে একজনকে। এবার সেই এগিয়ে থাকা তালিকায় ছিল রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নাম। তবে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে পাল্টে যায় সব হিসাব। রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে জানানো হয় তাদের কেউ যাবেন না প্যারিসে। কারণ তারা জানতে পারে ভিনিসিয়ুস পাচ্ছেন না পুরস্কার। রিয়াল মাদ্রিদ বয়কট করে অনুষ্ঠান। তখন অনেকেই সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ধরে নেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে। হলোও তাই, ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন রদ্রি। প্রথম ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন ২৮ বছরের রদ্রি।

২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন না গতবারের জয়ী লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কেউ। ১৯৬০ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন স্পেনের লুইস সুয়ারেস। এতদিন স্পেনে জন্ম নেওয়া একমাত্র ব্যালন ডি’অর জয়ী ছিলেন বার্সেলোনা ও ইন্তার মিলানের সাবেক এই মিডফিল্ডার। এবার তার পাশে বসলেন রদ্রি। অবশ্য সুয়ারেজের আগে স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে এই পুরস্কার জেতেন আলফ্রেডো ডি স্টেফানো (১৯৫৭ ও ১৯৫৯)। তবে তার জন্ম ছিল আর্জেন্টিনায়, ১৯৫৬ সালে স্পেনের নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড।

ম্যানচেস্টার সিটির টানা চতুর্থ প্রিমিয়ার লিগ জয়ে বড় অবদান রাখেন রদ্রি। সিটির হয়ে ২০২৩-২৪ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫০ ম্যাচে গোল করেন ৯টি। এছাড়া অবদান রাখেন সতীর্থদের ১৪ গোলে। গেল জুলাইয়ে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ইউরোতে স্পেনের শিরোপা জয়েও রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, চোটের কারণে ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধে না খেলেও জেতেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ইউরোতে ৫২১ মিনিট খেলে সফল পাসের হার ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ (৪৩৯ পাসের মধ্যে ৪১১টি সফল পাস)। রদ্রি কিছুটা চুপচাপ স্বভাবের। নিজের কাজটা ঠিকমতো করে যেতেই পছন্দ করেন। তাই তো ব্যালন ডি’অর জিতে মঞ্চে উঠে বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেই। লোকে আমাকে তেমন একটা চেনে না। আমি সাধারণ একজন। খেলা উপভোগ করি। নিজের কাজটাও। ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি। শান্ত মানুষ।’ সেটা হয়ে ক্লাব সিটিকে ধন্যবাদ দিতে ভুলে যাননি। রদ্রি আরও বলেন, ‘আমি শুধু বলতে চাই ম্যানচেস্টার সিটি বিশ্বের সেরা ক্লাব। ধন্যবাদ, আপনারা সবাই বিশেষ। আমি জানি আপানাদের ছাড়া আমি এটি করতে পারতাম না।’

সেরা নারী ফুটবলারের পুরস্কার অর্থাৎ ব্যালন ডি’অর ফেমিনিন জিতেছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ খেলোয়াড় আইতানা বোনমাতি। টানা দ্বিতীয়বার সেরা নারী ফুটবলার হলেন মিডফিল্ডার বোনমাতি।

রেকর্ড গড়ে সেরা অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলারের পুরস্কার কোপা ট্রফি জিতেছেন বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে কোপা অ্যাওয়ার্ড জয়ের কীর্তি গড়েন ইয়ামাল। রেকর্ড গড়েছেন টানা দ্বিতীয়বারের মতো বর্ষসেরা গোলকিপারের পুরস্কার (ইয়াশিন ট্রফি) জেতা এমিলিয়ানো মার্তিনেজও। আর্জেন্টিনা ও অ্যাস্টন ভিলায় খেলা এমি মার্তিনেজ প্রথম গোলকিপার হিসেবে টানা দুবার জিতলেন এই পুরস্কার।