কথার লড়াই চলতে চলতেই মিলুক সাফল্য!

আরেকটি সাফের ফাইনালে পৌঁছে যাওয়া বাংলাদেশ নারী দলের ফুটবলাররা ভারী অদ্ভুত! এরা দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার জেমস বাটলারকে সহ্যই করতে পারছেন না। আবার তার অধীনে ঠিকই নিজেদের উজাড় করে খেলে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন আরেকটি শিরোপার। কয়েক ঘণ্টা পর কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় শুরু হবে ফাইনাল। তারা প্রস্তুত আরেকবার স্বাগতিকদের কাঁদিয়ে শিরোপা উৎসব করতে। অথচ তাদের সঙ্গে ভেতরে-বাইরে চলছে কোচের কথার লড়াই।

ব্রিটিশ কোচ নিজেকে শতভাগ পেশাদার দাবি করলেও তার আচার-আচরণ, কথাবার্তায় মিলছে উল্টোটা। তিনি সিনিয়র কয়েকজন খেলোয়াড়কে যখনই পারছেন, খোঁচা মেরে কথা বলছেন, করছেন কটূক্তি। ২০২২ সাফজয়ী দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের ওপর বেজায় ক্ষোভ বাটলারের। ছোটন নাকি বাইরে থেকে মেয়েদের খারাপ খেলার পরামর্শ দেন! অথচ মেয়েদের দাবি একেবারে উল্টো। তাদের কথা, ছোটন কখনই তাদের আজেবাজে পরামর্শ দেননি। বরং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে প্রিয় কোচের কাছে তারা  ছোটনের দেওয়া সাহস আছে বলেই বিদেশি কোচের সঙ্গে যতই বিরোধ থাকুক, চলুক যতই কথার লড়াই, এই মেয়েরা আরেকটি সাফল্য ছুঁতে বদ্ধপরিকর।

অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের কথাতেই পরিষ্কার, ‘আমরা দেশের জন্য খেলছি। আর কারও জন্য নয়। দেশকে আরেকবার আনন্দে ভাসাতে দেখবেন আমরা কাল (আজ) জান দিয়ে খেলব।’ সেটা যে তারা খেলবেন বা খেলে চলেছেন, তা তো সেই ভারত ম্যাচ থেকেই বোঝা যাচ্ছে। দুর্বল পাকিস্তানের সঙ্গে কোনোমতে ড্র করে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানের শুরু। সেই ম্যাচে বাটলার পরীক্ষিত মারিয়া মান্ডা, মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণারানী, সানজিদাকে বাইরে রেখে সাজান একাদশ। তারুণ্যে আস্থা রাখার সিদ্ধান্তটা যে ভুল, তারই প্রমাণ পাকিস্তানকে হারাতে না পারা। সেই ম্যাচ থেকেই বিরোধটা প্রকাশ্যে আসে। সাবিনারা বারবার কোচকে তাগিদ দেন মারিয়া, সানজিদা, কৃষ্ণাদের নামাতে। কিন্তু কোচ তার সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন। এরপর ম্যাচ শেষে যখন মনিকা চাকমা আসল রহস্যটা সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানিয়ে দেন যে এই কোচ দলের সিনিয়র কয়েকজনকে একদমই পছন্দ করেন না, তখনই শুরু হয় কথার লড়াই। ফুটবলাররা বিতর্কিত একাদশ সাজানো এবং পাকিস্তানের ম্যাচের বাজে পারফরম্যান্সের দায় কোচকে দেন। কোচ ছেলেমানুষের মতো তর্কে জড়িয়ে উল্টো মেয়েদের ব্যক্তিগত বিষয় সামনে টেনে আনেন। বাটলারের দাবি, খেলার চেয়ে মেয়েরা নাকি টিকটক করতে বেশি পছন্দ করে! আরেকবার বাটলার সব দায় চাপান গোলাম রব্বানী ছোটনের ওপর।

বাটলারের এমন মনগড়া অভিযোগ শুনে চটে যান খেলোয়াড়রা। তারাও পাল্টা জবাব দেন মুখে। তবে আসল জবাবটা সাবিনারা দিয়েছেন মাঠের খেলা দিয়ে। কোচের সঙ্গে লড়াই করে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে পাঁচবারের ভারতের বিপক্ষে তারা নেমেছিল সেরা দল হয়ে। ফলটা তিনি পেয়েছেন। আরেকবার শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে এই মেয়েরা প্রিয় শিক্ষক ছোটনকে এক মুহূর্তও ভুলে থাকতে পারছেন না। বাটলারের নির্দেশে মেয়েদের হাত থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মোবাইল ফোন। ফলে প্রিয় কোচের কাছে দোয়াও চাইতে পারছেন না। অধিনায়ক সাবিনা তাতে বিরক্ত হলেও মেনে নিচ্ছেন বাটলারের নির্দেশ। তিনি অবশ্য ব্যতিক্রম। তাই কথা হলো তার সঙ্গে, ‘গতবার ফাইনালের আগে ছোটন স্যার আমাদের অনেক মোটিভেট করেছিলেন।  তিনি আমাদের অনেক বড় শক্তি। স্যার আমাদের এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। এবার স্যারকে কিছু ফিরিয়ে দিতে চাই। এই শিরোপাটা তাই আমরা জিততে মুখিয়ে আছি।’ মেয়েরা কথার লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের লড়াইটাও ঠিকঠাক করছেন বলেই আরেকবার সাবিনার হাতে শিরোপা স্বপ্ন দেখছেন ফুটবলপ্রেমীরা।