সিগারেট বিক্রি ও নিট মুনাফা কমেছে বিএটি বাংলাদেশের

চলতি হিসাববছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) দেশে ১৯৮ কোটি স্টিক সিগারেট বিক্রি কম হয়েছে এ খাতের শীর্ষ কোম্পানি ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকো (বিএটি) বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের। তবে এরপরও সিগারেট বিক্রি থেকে কোম্পানির আয় বেড়েছে। প্রতি বছর বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ায় নিয়মিত আয় বাড়ছে কোম্পানিটির। চলতি বছরের ৯ মাসে সিগারেট বিক্রি থেকে কোম্পানিটির নিট আয় হয়েছে ৬ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি। তবে আয় বাড়লেও নিট মুনাফা সামান্য কমেছে।

বিএটি বাংলাদেশের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের ৯ মাসে কোম্পানিটি সিগারেট বিক্রি করেছে ৫ হাজার ৩০ কোটি স্টিক, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বা ১৯৮ কোটি স্টিক কম। অভ্যন্তরীণ ও রপ্তানির সিগারেট বিক্রি থেকে কোম্পানির টার্নওভার দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের ৯ মাসে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট বাবদ সরকারকে পরিশোধ করেছে ২৩ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা।

সিগারেট ও তামাক পাতা রপ্তানি করে চলতি বছরের ৯ মাসে বিএটি বাংলাদেশ আয় করেছে ৩৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৩৫ কোটি ৫০ লাখ স্টিক সিগারেট রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আর ৪১ লাখ কেজি তামাক পাতা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২০৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে চলতি বছর তামাক পাতা রপ্তানিতে ভালো দাম পেয়েছে। ২০২৩ সালে প্রতি কেজি তামাক পাতা রপ্তানি করে বিএটি বাংলাদেশের আয় ছিল ৩৮৫ টাকা, যা চলতি বছরের ৯ মাসে প্রায় ৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট পরিশোধ শেষে চলতি বছরের ৯ মাসে কোম্পানির নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা। চলতি বছর বিএটি বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। চলতি ৯ মাসে কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় দাঁড়িয়েছে নিট আয়ের ৫১ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। উৎপাদন ব্যয় সমন্বয় শেষে চলতি বছরের ৯ মাসে কোম্পানিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা। এ সময়ে পরিচালন ব্যয় ১২ শতাংশের বেশি কমায় পরিচালন আয়ে প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।

চলতি ৯ মাসে পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ কোটি টাকা বেশি। চলতি বছর কোম্পানিটির সুদ বাবদ ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে বিএটি বাংলাদেশের সুদ ব্যয় হয়েছে ৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩১ শতাংশ বেশি। মুনাফায় কর্মীর হিস্যা ও কর পরিশোধের পর চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩২২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৩ কোটি টাকা কম।