আম্পায়ারদের কষ্ট বুঝতে পারছেন ওরা

বুধবারের দুপুর, মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া ব্লকের সম্মেলন কক্ষে বসে আছেন প্রায় একশ তরুণ-তরুণী। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত নতুন আম্পায়ারদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতাবৃদ্ধির কোর্সে উত্তীর্ণদের সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আসবেন সভাপতি ফারুক আহমেদ। তারই অপেক্ষায় সবাই। নতুন এই আম্পায়ারদের ওপর চোখ বুলাতেই হঠাৎ করে নজরে এলো দুটো পরিচিত মুখ। জাতীয় দলের ব্লেজার গায়ে বসে আছেন নারী দলের দুই ক্রিকেটার রুমানা আহমেদ এবং শারমিন আক্তার সুপ্তা। আম্পায়ারিং-এর কোর্সে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তারাও।

দেশের হয়ে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচেই মাঠে নেমেছেন রুমানা আহমেদ ও শারমিন আক্তার সুপ্তা। খেলোয়াড়ি জীবন শেষেও ক্রিকেটের সঙ্গে জুড়ে থাকা আর খেলার নিয়মকানুনগুলো আরেকটু ভালো করে বোঝার জন্যই দুই ক্রিকেটার অংশ নিয়েছেন ৫ দিনের এই কোর্সে। রুমানা জানালেন, ‘আমাকে (নাজমুল আবেদীন) ফাহিম স্যারসহ অনেকেই বলেছিলেন খেলার বাইরেও খেলা সংক্রান্ত এসব কোর্স করে রাখার জন্য। ঐ সময়টায় ফাঁকা ছিলাম, তাই করে নিয়েছি। অনেক কিছু জানতে পেরেছি। বিশেষ করে ডেড বল, রানআউট এসব ব্যাপারে অনেক কিছু আছে যা আমরা অনেকদিন ধরে খেলেও জানতে পারিনি। খেলা ছাড়ার পরও ক্রিকেটের সঙ্গে থাকা যাবে, সে রকম একটা ভাবনা তো আছেই। এর বাইরেও নিয়মগুলো ভালোভাবে জানা থাকলে খেলোয়াড় হিসেবেও এই জ্ঞানটা আমাকে সাহায্য করবে।’

অলরাউন্ডার রুমানা এখন অনেকটাই বুঝতে পারছেন আম্পায়ারের কষ্টটাও, ‘বোলার হিসেবে আমার এখন লেগবিফোর উইকেটটা বুঝতে অনেক সুবিধা হবে, ব্যাটিংয়ের সময়েও বুঝতে পারব তখন রিভিউ নেওয়াটা উচিত হবে কি না সেটাও বুঝতে পারব। আম্পায়ারদের আসলে খুব দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত দিতে হয়, অনেক সময় আমরা আম্পায়ারদের ভুল বুঝি। এখন তাদের দিকটাও আমরা বুঝতে পারছি।’ সুপ্তাও বললেন তার আম্পায়ারিং শেখার গল্প, ‘আমি একদিন বিসিবির মেডিকেল উইংয়ে পা দেখাচ্ছিলাম দেবাশীষ স্যারকে। তখন ফাহিম স্যার আমাকে বলেন এই কোর্সের ব্যাপারে, বলেন যে আমাদের মতো শিক্ষিত মেয়েরা না এলে কারা আসবে? সে জন্যই আসা। অনেক কিছু শিখেছি। এখন মনে হচ্ছে আম্পায়ারদের ধৈর্য অনেক বেশি। এই কোর্সটা করার পর আম্পায়ারের সিদ্ধান্তগুলো সহজে মেনে নিতে পারব।’

আম্পায়ারিং প্রশিক্ষণ কোর্সে ৯৪৪ জন আবেদন করেন, যাদের ভেতর থেকে ৩৮৭ জনকে অ্যাপ্টিটিউড টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। সেখান থেকে ১১৭ জনকে ৫ দিনের প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হয়, তাদের ভেতর ৯৮ জন সফলতার সঙ্গে এই কোর্সে উত্তীর্ণ হয়েছেন। কোর্স পরিচালনা করেন সাবেক ক্রিকেটার ও আম্পায়ার এনামুল হক মনি, আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল ও চিফ ম্যাচ রেফারি রকিবুল হাসান। সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম, ইফতেখার আহমেদ মিঠু, এলিট প্যানেল আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত, আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল ও এনামুল হক মনি। প্রধান অতিথি হিসেবে সনদপত্র প্রদান করেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ।