মুখ লুকিয়ে বিদায় নিলেন চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ বাটলার

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সঙ্গে জার্নিটা ভালো হলো না ব্রিটিশ কোচ পিটার জেমস বাটলারের। এমনকি সাফ জয়ের পরও নয়। তাই তো বুধবার নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফ শিরোপা ধরে রাখার ম্যাচটাকেই মেয়েদের হয়ে শেষ ম্যাচ হিসেবে জানিয়ে দিলেন বাটলার।

এমনটা হওয়ারই কথা ছিল হয়তো। ডাগ-আউটে বাটলার থাকলেও, মেয়েদের সঙ্গে যে তার তৈরি হয়েছিল বিশাল দূরত্ব। দলের ভেতরের এই কোন্দলে ক্ষতে প্রলেপ দিতে পারেনি মর্যাদার শিরোপাও। তাই তো আনুষ্ঠানিক শিরোপা তুলে নেওয়ার সময় ফটোসেশনের সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা যায়নি তাকে। এমন সাফল্যের দিনেও মেয়েদের সঙ্গে দূরত্ব রেখে যেন নিজেকেই সমালোচিত করেছেন কোচ। স্থানীয় সাংবাদিকরা দূরে দাঁড়িয়ে থাকার কারণ জানতে চাইলে বাটলার যেন ক্ষোভ থেকেই বলে উঠেন, ‘এই শিরোপা মেয়েদের উপভোগ করতে দিন। আমার উদযাপনের দরকার নেই। এটা আমার শেষ ম্যাচ (মেয়েদের সঙ্গে)। এখন সংবাদ সম্মেলন আছে, আমাকে যেতে দিন।'

সাফল্যে চূড়া ছোঁয়ার পরও তাই বারবার আসছে কোচ-খেলোয়াড়ের মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়টি। এখানে খেলোয়াড়দের যতটুকু দায়, তার চেয়ে অনেক বেশি বাটলারেরই। তিনি একজন পেশাদার কোচ হয়েও পারেননি পুরো দলের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রাখতে। তারুণ্যে গুরুত্ব দিতে গিয়ে দলে ঐক্যে ফাঁটল ধরাতে চেয়েছেন। পরে তার ভুল ধরিয়ে দিতেই ফুটবলাররা বাধ্য হয়, ভেতরের অনেক অজানা কথা বাইরে আনতে। মারিয়া মান্ডা, সানজিদা, কৃষ্ণা, মাসুরার মতো অভিজ্ঞদের তিনি একেবারেই সহ্য করতে পারেন না। তাই টুর্নামেন্টের শুরুর ম্যাচে একাদশেই রাখেননি এদের। ফলে দুর্বল পাকিস্তানের সঙ্গে ড্র করে বসে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে মারিয়া ও মাসুরাকে নামানোর জন্য বারবার অনুরোধ করেছেন সাবিনাসহ বাকি ফুটবলাররা। তাতে কান দেননি কোচ। পরে এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিযোগ তুলতে শুরু করেন ফুটবলাররা।

মিডিয়ায় কোচের আচরণ প্রকাশ পাওয়ার পর বাটলারও মুখ খুলতে শুরু করেন। প্রথমে মেয়েদের টিকটকে বেশি সময় দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচের আগে হুমকি দিয়ে বলেন, 'দেখব সিনিয়ররা কি পারফর্ম করে।' কোচের এই হুমকিতে তেতে উঠেছিল গোটা দল। ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ হয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। এরপরও থামেননি বাটলার। ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো সাফজয়ী বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ করেন ব্রিটিশ কোচ। ছোটন নাকি বাইরে থেকে মেয়েদের কুপরামর্শ দিচ্ছে ভালো না খেলতে!

প্রিয় কোচের বিরুদ্ধে বাটলারের এমন বক্তব্যে আরও ক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো দল। তবে তাদের সব রাগ-ক্ষোভ এক পাশে রেখে মাঠে তারা বিস্ফোরিত হয় অন্য রূপে। ফাইনালে স্বাগতিক দর্শকদের সামনেই নেপালকে হারিয়ে যেন বাটলারকেই একটা বড় শিক্ষা দিলেন সাবিনা-তহুরা-ঋতুরা। মেয়েদের দলের সঙ্গে বাটলার যে আর থাকছেন না তা আগেই বোঝা গেছে। এখন দেখার এই কোচকে বাফুফে এলিট অ্যাকাডেমির জন্যও রাখে কীনা বাফুফের নতুন কমিটি।