ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত নতুন হিজবুল্লাহ প্রধানের

দীর্ঘদিন ধরে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত চলছে ইসরায়েলের। ইহুদিবাদী দেশটির সামরিক বাহিনীর হামলায় মাসখানেক সময়ের মধ্যে হিজবুল্লাহর কয়েকজন শীর্ষ নেতা মারা গেছেন। এছাড়া ইসরায়েলের মুহুর্মুহু আক্রমণে দিশেহারা ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

এমন অবস্থায় শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের ইঙ্গিত দিয়েছেন হিজবুল্লাহর নতুন প্রধান নাইম কাশেম। গত মাসে ইসরায়েলের হামলায় তার পূর্বসূরি হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হওয়ার পর মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটির নেতা হন কাসেম।

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ কয়েক মাস ধরে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলা প্রতিহত করছে। তবে ইসরায়েলি প্রস্তাব পেলে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির দরজাও খুলে দিয়েছেন তিনি।

‘যদি ইসরায়েলিরা সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা আগ্রাসন বন্ধ করতে চায়, আমরা বলব আমরা মেনে নেব। তবে উপযুক্ত শর্তে,’ তিনি বলেন। কাসেম বলেন, ‘তবে হিজবুল্লাহ এখনো বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রস্তাব পায়নি।’

সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাদিদকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি বলেন, ‘মার্কিন দূত আমোস হোচস্টেইন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন- নভেম্বরের ৫ তারিখে মার্কিন নির্বাচনের আগেই আমরা হয়তো যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে পারি।’

মিকাতি জানিয়েছেন, ‘আগামী দিনগুলোতে’ যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে তিনি ‘আশাবাদী’। এদিকে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতে কী কী শর্ত দেওয়া যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনার জন্য দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসছে।

ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এর মধ্যে রয়েছে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার (২০ মাইল) দূরে লিতানি নদীর উত্তরে সরে যাওয়া এবং সীমান্তে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা।