জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়াদি সমন্বয়ের জন্য ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। গত ১ অক্টোবর রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। কিন্তু কমিটি গঠনের ১ মাস হলেও কমিটির কাজ এখনও দৃশ্যমান নয়।
কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে ক) শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়াদি সমন্বয় করা; খ) জকসু গঠনের আইনগত দিক পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; গ) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; ঘ) কমিটি প্রয়োজনে নিজ সুপারভিশনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কমিটি গঠনের ১ মাস হয়ে গেলেও কোনো কাজ এখনও দৃষ্টিগোচর হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা বৃহত্তর কর্মযজ্ঞের একটা বিষয়। ছাত্রদের সমস্যার কোনো অন্ত নেই। এই পর্যন্ত আমরা তিনটি সভা করেছি। তিন সভাতেই আমরা কিভাবে কাজগুলো করব সেগুলো ঠিক করেছি। বিভিন্ন ফোরাম যেগুলো আছে তাদের মাধ্যমে আমরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে চাই। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিভাগের চেয়ারম্যানও একাডেমি কমিটির মাধ্যমে প্রতি সেমিস্টারের প্রতিনিধি নির্বাচন করে তালিকা দিলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধির বিধিবদ্ধ তালিকা এবং জকসু নির্বাচন আমরা সামনে যেহেতু করব, এইখানেও একটা গণতন্ত্রের চর্চা হবে। সেই তালিকা সংগ্রহ করার জন্য আমরা চিঠি রেডি করেছি। অ্যাক্টিভ সেসব ছাত্র সংগঠন আছে তাদের সাথেও আমরা আলোচনা করব। সংস্কার আন্দোলেনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে একটা গ্রুপ আছে। তাদের সঙ্গে বসে কিভাবে কি করা যায় সিদ্ধান্ত নেব। এগুলো আমাদের প্ল্যানের অংশ।
তিনি বলেন, আমরা ফুডকুড নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি, ডিজাইনও ঠিক হয়েছে। উপাচার্য স্যার দেশে ফিরলেই কাজ শুরু হবে। আমাদের বেদখল হলগুলোর কী অবস্থা সেটা জানতে হলে প্রশাসনের সঙ্গে বসতে হবে। কমিটির সদস্যরা ভিসির সঙ্গে বসে তদারকি করব। তারপর যদি যেখানে স্থানীয় আবাসন করার ব্যবস্থা থাকে সেদিকে আগাব, নয়তো অস্থায়ীভাবে ছাত্রদের জন্য একটা ব্যবস্থা করব। এসবগুলোই আমাদের পরিকল্পনায় আছে সে কাজ করতে গেলে প্রচুর প্রশাসনিক সাহায্য লাগবে, ভিসি স্যার আসার সঙ্গে সঙ্গে ফুড কর্নার নির্মাণের বাজেটটা হয়ে যাবে। কাজগুলো শুরু হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে।
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ট্রেজারার, কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, আমরা মিটিং করেছি, সেখানে নির্ণয় করেছি কোন কাজগুলো আগে করা দরকার। জকসু তার মধ্যে অন্যতম। জকসুর আইনগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় আইনে জকসু নাই সেক্ষেত্রে আইন সংশোধনের প্রয়োজন আছে কিনা, আমাদের যে আইন উপদেষ্টারা আছেন তাদের মতামত নেবেন। ইমারজেন্সি বিষয়গুলা আগে দেখব।
ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. কে এ এম রিফাত হাসান বলেন, আমাদের তিনটি মিটিং করা হয়েছে, তাতে শিক্ষার্থীদের ডিমান্ডটা কি তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনটা আগে করা যায় কোনটা পরে। প্রথমে রয়েছে ক্যাফেটারিয়া, কারণ শিক্ষার্থীদের খাবারের অবস্থা খুব খারাপ। দ্বিতীয়ত আবাসনের ব্যবস্থা করা বা হল উদ্ধারের কোনো কাজ আছে কিনা। তৃতীয়ত জকসু নির্বাচন নিয়ে কাজ করা। আর চতুর্থ ক্যাম্পাসে নোংরা অনেক, আমরা গ্রিন ক্যাম্পাসের দিকে যাওয়ার কথা ভাবছি।
কমিটির সদস্য ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা স্টেপ বাই স্টেপ আগাব। প্রথমত আমাদের এখন ক্যাফেটারিয়া নিয়ে পরিকল্পনা চলছে, ডিজাইন ও তৈরি হয়েছে। জকসু আইন নিয়ে লিগ্যাল অ্যাডভাইজারদের সঙ্গে আলোচনা হবে।
কমিটির আরেক সদস্য ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি নন। কমিটির সদস্য-সচিব প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. তাজাম্মুল হক কমিটি ও তাদের কাজের বিষয়ে কোনো ধরনের মতামত দেননি।
সরকার পতনের পর নতুন প্রশাসন শিক্ষার্থীদের যাবতীয় বিষয়াদি দেখাশুনা করবে এবং তাদের দাবি-দাওয়া পূরণ করবে এই প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রাশিদুল ইসালম বলেন, জবি ক্যাম্পাস থেকে ভিসি এবং ফুল প্রশাসনিক বডি পেয়ে ভেবেছিলাম অনেকটা ভরসার জায়গা পেয়েছি। হয়তো আমাদের বোঝার ভুল থাকতে পারে, অন্যথায় আমাদের এক্সপেক্টেশান বেশি ছিল। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল ১ অক্টোবর। যেখানে শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় সমন্বয় করা, জকসু গঠনের চূড়ান্ত নীতিমালা প্রণয়ন, অ্যালামনাই গঠন এরকম চারটা ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, একটা বিষয়েও কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের আশার গুঁড়ে বালি। তাই যত দ্রুত সম্ভব যে কাজগুলোর জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন করতে হবে।
ইতিহাস বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. শাহিন মিয়া বলেন, ১ অক্টোবর কমিটি গঠনের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশার আলো জেগেছিল। কিন্তু একমাস হয়ে যাওয়ার পরও কমিটির কোনও কার্যক্রমিই দৃশ্যমান না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের কার্যক্রমের যদি কোনও আপডেট না পাই তাহলে শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর আস্থা হারাবে। তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।