প্রায় সাত দশকের অভিনয়জীবন ছিল বর্ষীয়ান অভিনেতা মাসুদ আলী খানের। তার সঙ্গে কাজ করেছেন অনেক নির্মাতা। এদেরই একজন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তার আলোচিত দুই ধারাবাহিক ‘একান্নবর্তী’ ও ‘সিক্সটি নাইনে’ অভিনয় করেছেন মাসুদ আলী খান। বাবা হিসেবে পেয়েছিলেন দর্শকপ্রিয়তা।
অভিনেতার মৃত্যু সংবাদ জেনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় নির্মাতাকে। ফারুকী বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার দুটি সিরিজে কাজ করতে গিয়ে বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। তাকে যেকোনো কথা বলতে পারতাম। এর আগে আমি যখন কিছু বানাইনি তিনি র্যাংগসে কাজ করতেন। তিনি সনির শো-রুমে বসতেন। বিজয় সরণীর পাশে একটা অফিস ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তখন বেকার। উনার কাছে স্বশরীরে স্ক্রিপ্ট নিয়ে গিয়েছিলাম। সে কাজটি করা হয়নি। কিন্তু আমার সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়ে যায়। একসময় ঢাকা শহরে অনেক বড় ভাইয়ের কাছে গিয়ে ফ্রি খেতাম। সেই ফ্রি খাওয়ার একটা স্টেশন ছিল মাসুদ ভাই।’
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৪ টা ২০ মিনিটে রাজধানীর নিজ বাড়িতেই ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হয় একুশে পদকপ্রাপ্ত এই অভিনেতার। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেখভালের দায়িত্বে থাকা রবিন মন্ডল।
‘কূল নাই কিনার নাই’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘দুই দুয়ারী’সহ সাড়া জাগানো বহু নাটক, সিরিজ ও সিনেমায় অভিনয় করেছেন মাসুদ আলী খান। এসব কাজ তাকে ব্যাপক খ্যাতি ও দর্শকপ্রিয়তা দিয়েছে।
দুই বছর আগে একটি দৈনিকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় মাসুদ আলী খান বলছিলেন, ‘পাওয়া না পাওয়া নিয়ে ভাবি না। আমি মনে করি আল্লাহ আমাকে বিপুল মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন। এটা কজন পায়? এটুকুই শিল্পী জীবনের সেরা প্রাপ্তি।’
১৯২৯ সালের ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জের পারিল নওধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাসুদ আলী খান। শেষ কয়েক বছর অভিনয়ে নিয়মিত ছিলেন না। কিন্তু খুব ইচ্ছে করত তার অভিনয় করতে। কিন্তু বয়সের কারণে ঘরেই থাকতে হত।
মাসুদ আলী খানের বাবা আরশাদ আলী খান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। মায়ের নাম সিতারা খাতুন। ১৯৫৫ সালে বিয়ে করেন মাসুদ আলী খান। তার স্ত্রী তাহমিনা খান। ব্যক্তিজীবনে এই অভিনেতার এক ছেলে ও এক মেয়ে। চাকরিজীবনে সরকারের নানা দপ্তরে কাজ করেছেন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সচিব হিসেবে অবসর নেন।
১৯৫২ সালে উচ্চমাধ্যমিক ও জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন মাসুদ আলী খান। মঞ্চে অভিনয় দিয়ে যাত্রা শুরু হয় তার। এরপর ১৯৬৪ সালে ঢাকায় টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ার পর নূরুল মোমেনের নাটক ‘ভাই ভাই সবাই’ দিয়ে ছোট পর্দায় অভিষেক।
সাদেক খানের ‘নদী ও নারী’ দিয়ে বড় পর্দায় তার পথচলা শুরু। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে প্রায় ৫০০ নাটকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।