‘সবকিছুর জন্য ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ’

লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন এমএলএস কাপে। নিজেদের মাঠে আটলান্টা এফসির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জিতেছে তার দল। কাল ভোরে আটলান্টার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে মায়ামি। তার আগে মেসি দ্যা ‘৪৩৩’ অ্যাপ-এর জন্য সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোকে।

মেসির বয়স ৩৭। মেসির পেশাদার ক্যারিয়ার থেকে অবসরের সময় হয়তো খুব একটা দূরে নয়। অবসরের পর কোচিং পেশায় জড়াবেন কি না তা নিয়ে আছে ভক্ত সমর্থকদের আগ্রহ। এ নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমি কোচ হতে চাই না। তাছাড়া আমি এখনো নিশ্চিত নই যে ভবিষ্যতে কী করতে চাই। আসলে আমি বর্তমানে যা করি সেটাই আমার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান। তাই আমি শুধু খেলা, অনুশীলন এবং মজা করার কথাই ভাবি।’

২০২২ কাতারে বিশ্বকাপ জিতেছেন। এরপর টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা আমেরিকা শিরোপাও জিতেছেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন কি না সেই বিষয়ে এখনো মেসি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তবে যত সাক্ষাৎকারই দেন মেসিকে এই প্রশ্নটিই বেশি শুনতে হয় যে ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলবেন কি না। মেসি রোমানোকে বলেন, ‘আমি জানি না (২০২৬ বিশ্বকাপে খেলব কি না)। এ বিষয়ে অনেক প্রশ্ন শুনতে হয়, বিশেষ করে আর্জেন্টিনায়। আমি এ বছর ভালোভাবে শেষ করতে চাই, এরপর পরের বছরের প্রাক-মৌসুম ভালোভাবে শুরু করতে চাই, প্রচুর ভ্রমণের জন্য যেটা গত বছর পারিনি।’

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে মেসি আরও বলেন, ‘(প্রাক মৌসুম শুরুর পর) আমি কেমন করছি, কেমন অনুভব করছি, সেটা বোঝার চেষ্টা করব। আমরা যেমন ২০২৬ বিশ্বকাপের কাছাকাছি আছি, তেমনি এটাও ঠিক যে হাতে সময় আছে। ফুটবলে যেকোনো কিছুই হতে পারে। প্রতিটি দিন ধরে ধরে এগোচ্ছি, এর বাইরে ভাবছি না।’

ইউরোপে খেলেছেন ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়। যুক্তরাষ্ট্রে এসে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে তার। এ নিয়ে বলেন, ‘পারিপার্শ্বিকতা ও বয়সের কারণে খেলার ধরন বদলেছি আমি। সবকিছুতে একটু করে মানিয়ে নিচ্ছি। নিজেকে পুনরাবিষ্কার করছি এবং এই লিগে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি, আমার জন্য যা নতুন। তবে শুরু থেকেই এখানে খুব স্বস্তি অনুভব করেছি।’

মেসির দল মায়ামি এই বছর জিতেছে সাপোর্টাস শিল্ড। অর্থাৎ দুই কনফারেন্স মিলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল মায়ামি। এখন মেসির লক্ষ্য ক্লাবকে এমএলএস কাপ জেতানো। ক্লাব ক্যারিয়ার নিয়ে রেকর্ড ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি বলেন, ‘ক্লাব বড় করতে চাইলে শিরোপা জিততে হবে। এমএলএসে বাজে (২০২৩) একটি বছর কেটেছে। আমি আসার পর লিগস কাপ জিতেছে, যা ক্লাবের প্রথম শিরোপাও। ব্যাপারটা অসাধারণ ছিল। এখন আমরা প্লে-অফ খেলতে মরিয়া এবং আশা করি, এমএলএসও জিততে পারব। ক্লাব ও ব্যক্তিগত জায়গা থেকে আমরা এটাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’ এমএলএসের মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ারের পাঁচজনের তালিকায় আছে মেসির নাম। এই মৌসুমে ১৯ ম্যাচে ২০ গোল করার পাশাপাশি ১৬ অ্যাসিস্টও করিয়েছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা।

মেসি জানিয়েছেন এখন তিনি পরিবারের সঙ্গে কেমনভাবে সময় কাটান। তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরোর সঙ্গে খেলাধুলার বিষয়টিও জানান। ‘আমরা (বাবা ও ছেলেরা) সব সময়ই বল নিয়ে থাকি। সেটা ম্যাচ খেলা হোক বা প্লে স্টেমনে গেম, পাসিং (পাস খেলা) বা শুধু বলে কিক মারাই হোক।’ সন্তানদের ফুটবল খেলা নিয়ে কোনো পরামর্শ দেন কি না এমন প্রশ্নে মেসি বলেন, ‘এটা আসলে নির্ভর করে পরিস্থিতি ও খেলার ওপর। তারাও আমাকে খেলা নিয়ে পরামর্শ দেয় এবং সমালোচনাও করে (খেলা নিয়ে) ম্যাচ দেখার পর।’

নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে সন্তুষ্ট মেসি। তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাকে সেভাবেই মনে রাখুক যেভাবে তারা চায়। আমি নিজের ক্যারিয়ারের জন্য কৃতজ্ঞ এবং যা কিছু অর্জন করেছি তার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’ মেসি জানান, তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ জয়। ‘আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ জেতা, যেটার জন্য দীর্ঘ সময় লড়াই করেছি এবং অনেক পরিশ্রম করেছি। আমি ভাগ্যবান বার্সেলোনার হয়ে সম্ভাব্য সবকিছু জিতেছি, জাতীয় দলের হয়ে জিতেছি, চমৎকার জীবন উপভোগ করছি, সুন্দর পরিবার পেয়েছি তাই সবকিছুর জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ।’