একদিন পরেই ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দেশটির এ বছরের নির্বাচনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিপাবলিকান দলীয় ডোনাল্ড ট্রাম্প আর ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসের মাঝে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস রয়েছে।
কিছু কিছু রাজ্যে আগাম ভোট নেয়া হলেও চূড়ান্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার। তবে ৫ নভেম্বরের নির্বাচনের ফল কখন জানা যাবে, তা নির্ভর করছে অনেকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেমন তীব্র হবে তার ওপর। তবে তাদের দু’জনের মধ্যে কে জয়ী হবেন, সেটা ভোটারদের দেওয়া ভোটে সরাসরি নির্ধারিত হবে না।
জাতীয় স্তরের নির্বাচনী লড়াইয়ের বদলে জয়ী-পরাজিত নির্ধারিত হবে; একেকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী লড়াইয়ের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের একটিতে জয়ী হওয়ার অর্থ একজন প্রার্থী সেই অঙ্গরাজ্যের সবকটি ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ ভোট পেয়ে যাবেন।
সাতটি সুইং রাজ্যের ভোট; যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে কে এগিয়ে তা নির্ধারণ করবে। এই সাত রাজ্যের ভোটগ্রহণ শেষ হবে ৫ নভেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে।
কিছু রাজ্যে যদি ভোটের ব্যবধান কয়েক হাজারে নেমে আসে তাহলে হয়তো ২০২০ সালের মতোই পরিস্থিতি তৈরি হবে। কিন্তু একজন প্রার্থী যদি নির্বাচনে ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন, তাহলে ফলাফল আরও আগে পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।
২০২০ সালে কি ঘটেছিল?
২০২০ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার)। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণী সাত রাজ্য—অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, মিশিগান, নেভাদা, উত্তর ক্যারোলিনা, পেনসিলভানিয়া এবং উইসকনসিনের ফলের জন্য পরের দিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ভোট গণনায় অতিরিক্ত সময়ের দরকার হয়েছিল সেই সময়। বার্তা সংস্থা এপি ধারণা দিয়েছিল যে মিশিগান এবং উইসকনসিন রাজ্যে বেশিসংখ্যক ইলেক্টোরাল কলেজ পেতে পারেন জো বাইডেন। আর হয়েছিল তাই। এছাড়া ডাকযোগে দেওয়া ভোট গণনা করার জন্য নির্বাচনের ফল জানতে আরও তিন দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার চারদিন পর ৭ নভেম্বর শনিবার পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
ভোট গণনা শুরু হয় কখন?
প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজদের নিয়ম অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সময় নির্ধারণ করে থাকে। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা। তবে সাধারণত স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সময়ের ব্যবধানের কারণে এমনও হতে দেখা যায়, পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা শুরু হয়ে যায়, কিন্তু আলাস্কা ও হাওয়াইয়ের মতো অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা তখনও ভোট দিতে থাকেন৷
ভোটের রাত কেমন যাচ্ছে তার প্রথম ইঙ্গিত পাওয়া যাবে জর্জিয়ায় সন্ধ্যা ৭টা এবং উত্তর ক্যারোলিনায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর। তবে কমালা হ্যারিস যদি সুইং রাজ্যগুলোতে ভালো ফল করেন তাহলে মিশিগান, পেনসিলভানিয়া এবং উইসকনসিনের মতো রাজ্যগুলোর ফল পেতে ডেমোক্র্যাট শিবিরকে অপেক্ষা করতে হবে না। বিপরীতে ট্রাম্প যদি দক্ষিণের যুদ্ধের ময়দানেও জয়ী হন তাহলেও কমালা হ্যারিসের জয়ের পথ প্রশস্ত থাকবে। তবে চূড়ান্ত ফলের জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।
ইলেক্টোরাল কলেজে নির্ধারণ হবে ফল
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা ৫ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেবেন। তবে প্রধান দুই প্রার্থী ট্রাম্প এবং হ্যারিসের মধ্যে কে জয়ী হবেন, সেটা ভোটারদের দেওয়া ভোটে সরাসরি নির্ধারিত হবে না। জাতীয় স্তরের নির্বাচনী লড়াইয়ের বদলে জয়ী-পরাজিত নির্ধারিত হবে; একেকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী লড়াইয়ের মাধ্যমে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের একটিতে জয়ী হওয়ার অর্থ একজন প্রার্থী সেই অঙ্গরাজ্যের সবকটি ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ ভোট পেয়ে যাবেন।
ইলেকটোরাল কলেজের মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮। মাইন ও নেব্রাসকা এই দু’টি অঙ্গরাজ্য বাদে বাকি সবগুলো রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট যোগ দিলে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ভোট পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন।
আর সেই প্রার্থীর রানিং মেট হয়ে যাবেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট।