নাটকীয় হারে মায়ামির সেমির অপেক্ষা বাড়ল

আটলান্টার এই জয়ে প্লেঅফ সিরিজ এখন ১-১ সমতা। ৯ নভেম্বর তৃতীয় ম্যাচে যে দল জিতবে তারাই সেমিফাইনালের টিকিট কাটবে এমএলএস কাপে প্রথম প্লে-অফে ২-১ গোলে জেতায় মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। আটলান্টার মাঠে জিতলেই নিশ্চিত হয়ে যেত ইস্টার্ন কনফারেন্সের প্লে-অফে ইন্টার মায়ামির সেমিফাইনাল। সেই লক্ষ্যে এগিয়েও গিয়েছিল মায়ামি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এলোমেলো হয়ে গেল মেসিদের স্বপ্ন। সমতায় ফেরার পর যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেন আটলান্টার জানদে সিলভা। ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে আটলান্টা ইউনাইটেড।

আটলান্টার মাঠ মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মেসিদের খেলা উপভোগ করতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৬৯ হাজার দর্শক। শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। তৃতীয় মিনিটে ভালো একটি আক্রমণ করে মায়ামি। কিন্তু লুইস সুয়ারেজের শট একটুর জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। ২২ মিনিটে জর্ডি আলবার কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে শট নেন মেসি। তবে সেটি সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। ২৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আটলান্টার আলেক্সি মিরানচুকের শট রুখে দেন মায়ামির গোলকিপার ড্রেক ক্যালেন্ডার। ৪০ মিনিটে ভুল করে বসেন আটলান্টার গোলকিপার ব্র্যাড গুজান। মায়ামির আক্রমণ থেকে বল ধরে কিক নেওয়ার সময় তিনি পড়ে যান। কাছেই ছিলেন মায়ামির রেডোন্ডো। তিনি বল দেন হেক্টর মার্টিনেজকে। আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডার প্রতিপক্ষের চার ফুটবলারের ওপর দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় চিপ করে বল জালে জড়ান।

প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মায়ামি। ৫৮ মিনিটে আমাদোর ক্রসে হেড করে আটলান্টাকে সমতায় ফেরান ডেরিক উইলিয়ামস। ৬৬ মিনিটে মেসির বাড়ানো বলে আলবা গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েও মারেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে। তিন মিনিট পর সুয়ারেজের ভলি রুখে দেন গুজান। ৮৩ মিনিটে ফের বল উড়িয়ে মারেন মেসি।

৮৯ মিনিটে আটলান্টার সাবা লবজানিদজের ভলি ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে। যোগ করা সময় দেওয়া হয় পাঁচ মিনিট। চতুর্থ মিনিটেই সিলভার সেই গোল। মিরানচুকের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে আচমকা শট নেন সিলভা। গোল উদযাপনে জার্সি খুলে হলুদ কার্ড দেখেন সিলভা। ম্যাচে ৫৬ শতাংশ সময় বল পজিশন মায়ামির। তবে তাদের ১০ শটের মাত্র দুটি লক্ষ্যে ছিল।

ম্যাচের পর মায়ামি কোচ জেরার্দো মার্তিনো বলেন, ‘বলতে গেলে পুরো ম্যাচেই আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল বল। আমরা তেমন কোনো ভুল করিনি যাতে প্রতিপক্ষ সহজেই ফিরে আসতে পারে। প্রথমার্ধে আমরা গোলের পরিষ্কার পাঁচটি সুযোগ পেয়েছিলাম। ব্র্যাড দারুণ পারফরম্যান্স না করলে আমরাই ব্যবধান গড়তাম।’

আটলান্টার এই জয়ে প্লে-অফ সিরিজ এখন ১-১ সমতা। ৯ নভেম্বর তৃতীয় ম্যাচে যে দল জিতবে, তারাই সেমিফাইনালের টিকিট কাটবে।